জলবায়ু পরিবর্তনে ১০০ কোটি শিশু ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে’
- বাংলাদেশে শিশুদের অধিকার স্কোরে উন্নতি
বিশ্বব্যাপী মারাত্মক বিপর্যয় আকারে দেখা দিয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। যার প্রভাব দিন দিন তেঁতে উঠছে পৃথিবী। এমনকি শীত প্রধান দেশগুলোতেও মারাত্মক তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে নানা ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। এতে পরিবেশের বাস্তুসংস্থান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কৃষিসহ বিভিন্নখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তবে এসব পরিবর্তন আর বিপর্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা।
জলবায়ুর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী শিশুরা যে ধরনের বিপদের মুখোমুখি সে বিষয়ে সতর্ক করেছে এক মানবাধিকার গোষ্ঠী। গতকাল বুধবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সতর্কতার বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তার বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। এ কারণে বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি শিশু ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে’ রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিগত এক দশকে অল্পবয়সীদের জীবনযাত্রার মানে উন্নতি হয়নি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনরের কারণে শিশুদের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকার বিষয়টি সামনে এনেছে শিশুদের নিয়ে কাজ করা নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামভিত্তিক সংস্থা কিডসরাইটস ফাউন্ডেশন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সরবরাহ করা পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে সংস্থাটি পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, প্রায় ৮২ কোটি শিশু অর্থাৎ বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিশু বর্তমানে তাপপ্রবাহের সংস্পর্শে রয়েছে।
কিডসরাইটসের তথ্যমতে, পানির ঘাটতি বিশ্বব্যাপী ৯২ কোটি শিশুকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মতো রোগগুলো প্রায় ৬০ কোটি শিশুকে বা প্রতি চারজনের মধ্যে একজন শিশুকে প্রভাবিত করেছে। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিশুদের অধিকার রক্ষায় বিশ্বের ১৮৫টি দেশের মধ্যে আইসল্যান্ড, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড শীর্ষে রয়েছে এবং সিয়েরা লিওন, আফগানিস্তান ও চাদ সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে।
কিডসরাইটসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মার্ক ডুলায়ার্টের মতে দ্রুত পরিবর্তনশীল জলবায়ু এখন তাদের (শিশুদের) ভবিষ্যৎ এবং তাদের মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে। তিনি প্রকাশিত প্রতিবেদনকে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের জন্য উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যয়িত করে বলেন, ‘গত দশকে শিশুদের জীবনের মানদণ্ডে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তার ওপর করোনাভাইরাস মহামারিতে শিশুদের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
কিডসরাইটসের মতে, করোনা মহামারি শিশুদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এসময় নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা এবং ক্লিনিক বন্ধ হওয়ার কারণে অনেক শিশু খাবার বা ওষুধ পায়নি। যার ফলে মহামারির মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার শিশু মারা গেছে। কিডসরাইটস ইনডেক্স বলছে, দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১৬ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ গত চার বছরে বিশ্বজুড়ে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৪ লাখ। এএফপি বলছে, সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও অ্যাঙ্গোলার কথা বিশেষভাবে সামনে এনেছে কিডসরাইটস। সংস্থাটি বলছে, এই দু’টি দেশ শিশুদের অধিকারের ক্ষেত্রে তাদের স্কোর উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের তথ্য ব্যবহার করে কোন দেশ কিভাবে জাতিসংঘের শিশু অধিকার কনভেনশন মেনে চলছে সেটি পরিমাপ করে থাকে কিডসরাইটস।








