দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন বেড়েছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন দুই স্টকের লেনদেন পরিমাণ বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই ও সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন শীর্ষে ওঠে এসেছ বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন শেয়ার। এদিন ৮৬ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে। এদিন ডিএসইর লেনদেন শীর্ষে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের শেয়ার দর পতন হয়েছে। এদিন লেনদেনে শেষে শেয়ারটির দর দাঁড়িয়েছে ১৪১ দশমিক ১০ টাকা। আগের দিন বুধবার লেনদেন শেষে শেয়ারটির দর ছিল ১৪৩ দশমিক ৪০ টাকা। একদিনের ব্যবধানে শেয়ার দর কমেছে ২ দশমিক ৩০ টাকা।
এদিন লেনদেন হয়েছে ৬১ লাখ ৪৬ হাজার ৬টি শেয়ার। অপরদিকে সিএসইর লেনদেন শীর্ষে থাকা আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। বৃহস্পতিবার লেনদেনে শেষে শেয়ারটির দর দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ১০ টাকা। আগের দিন বুধবার লেনদেন শেষে শেয়ারটির দর ছিল ১৭ টাকা। একদিনের ব্যবধানে শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে দশমিক ১০ টাকা। এদিন ৯ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে।
দুই স্টকের এদিন ৪৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৪৫ শতাংশ এবং সিএসইর ৫৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। এদিন উভয় স্টকের ৪০ দশমিক ৭০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৪২ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং সিএসইর ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের বাড়া-কমাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
এদিন ডিএসইতে সিমেন্ট, সিরামিক, খাদ্য আনুষঙ্গিক, পাট, বিবিধ, ভ্রমন অবসর এবং বস্ত্র খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এদিন সিমেন্ট খাতের ৭টির মধ্যে ৫টি, সিরামিক খাতের ৭টির মধ্যে ৫টি, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ২১টির মধ্যে ১৫টি, পাট খাতের ৩টির মধ্যে ২টি, বিবিধ খাতের ১৪টির মধ্যে ৯টি, ভ্রমন অবসর খাতের ৪টির মধ্যে ৩টি এবং বস্ত্র খাতের ৫৮টির মধ্যে ৩৭টি কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এদের মধ্যে নন ব্যাংকিং ফাইন্যান্স, জ্বালনি শক্তি, বিমা, আইটি, চামড়া এবং টেলিকম খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে।
এদিন নন ব্যাংকিং ফাইন্যান্স খাতের ২৩টির মধ্যে ১৮টি, জ্বালনি শক্তি খাতের ২৩টির মধ্যে ১৪টি, বিমা খাতের ৫৩টির মধ্যে ৩৭টি, আইটি খাতের ১১টির মধ্যে ৬টি, চামড়া খাতের ৬টির মধ্যে ৪টি এবং টেলিকম খাতের ৩টির মধ্যে ২টি কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। পুঁজিবাজারের কোম্পানিরগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের হ্রাস-বৃদ্ধি স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৫৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৫০ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১৭১টির, কমেছে ১৬৩টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৪৬টির।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮৪ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৪ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫১৭ দশমিক ৬১ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৭ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৯৭ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে। টাকার অংকে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, ওরিয়ন ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, বেক্সিমকো, বে-লিজিং, সাইফ পাওয়ারটেক, নাহি, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, জিপিএইচ ইস্পাত, একমি ল্যাব।
অপর পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৬১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৯টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১৬৪টির, কমেছে ১১৯টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৭৩টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৪৮ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭৬৯ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে। টাকার অংকে সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- আইএফআইসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ফার্মা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, আরামিট সিমেন্ট, কেয়া কসমেটিকস, রবি, এ্যাপোলো ইস্পাত।
আনন্দবাজার/শহক








