লক্ষীপুরের রায়পুর পৌরসভার পশ্চিম কাঞ্চনপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত প্রবাসী চাকুরিজীবী বেনিইয়ামিন ভুঁইয়া। অবসরে গিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন নান্দনিক ছাদ বাগান। ২৫০ টি টবে পান ও কমলাসহ দেশি-বিদেশি হরেক রকমের ফল ও সবজির গাছ লাগিয়েছেন তিনি।
ইতোমধ্যে গাছগুলো ফল ও সবজিতে ভরে গেছে। গাছে ধরেছে মিষ্টি কমলা-পেয়ারা ও পান। গাছে ফল আসায় তৃপ্তির হাসি ৭২ বছর বয়সী বেনিইয়ামিন ভুঁইয়ার চোখে-মুখে। তার মতো রায়পুর শহরে ও গ্রামে অনেকেই ছাদ কৃষিতে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। সারাবছরই ছাদ কৃষিতে ফুল-ফল, শাকসবজি চাষ করছেন তারা। শহরে শতাধিক ভবনের ছাদে ছাদ কৃষি করার কথা জানা গেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে রায়পুর উপজেলা শতাধিক ভবনের ছাদে গাছ ও সবজির চাষাবাদ হচ্ছে। ছাদগুলোতে হরেক রকমের ফল, ফুল ও সবজির গাছ রয়েছে। বেনিইয়ামিনের শিউলি আর্টিকালচার নামে বাগানে কয়েক রকমের আম, জাম, কমলা, মাল্টা, কামরাঙ্গা, জাম্বুরা, সফেদা, আঙুর, ড্রাগন, করমচা, আপেলের কলম, এবকেটর, আলুবোখারা, আরবি খেজুর, এলাচের চারা, গোলমরিচ, ১২ মাসি আম (কাটিনো আম), ড্রাগন ফল, লবঙ্গ, বারি মাল্টা-১, থাই মাল্টা, আনার, রামবুটান, বীজ ছাড়া পেয়ারা, বড়ই, পান ও কবুতরসহ বিভিন্ন রকম ফল ও ফুলের চারা কলম ও ঔষধি গাছের চারার বিশাল সমারোহ। এছাড়াও তিনি ৪ শতাংশ জমিতে সৌদি খাজুরের বাগানও করেছেন। শাকসবজির মধ্যে লাউ, টমেটো, শসা, তরই, ক্যাপসিকাম, কারিপাতা, লেটুসপাতা ও ধনেপাতা। ঔষধি গাছের মধ্যে অ্যালোভেরা, তুলসী, আমলকী ও অর্জুন। আঙুর ফলের মাচায় ঝুলছে শসা, লাউ আর তরই।
ছাদবাগান সম্পর্কে বেনিইয়ামিন বলেন, আমি ২৬ বছর প্রবাসে কাটিয়েছি, ২০০৬ সালে দেশে এসে বেকার হয়ে যাই। সে সময় কিভাবে ছাদ বাগান করে চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ ও ঢাকার এক বেয়াইয়ের কাছ থেকে উদ্ধুদ্ধ হয়ে ২০০৯ সালে দ্বিতল ভবনে কয়েকটি ফলের গাছ দিয়ে শুরু করেছিলাম। ধীরে ধীরে ছাদে সবজির গাছ লাগাই। গাছের চারা ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ, সাভার স্মৃতিসৌধ, যশোরের মনিরামপুর, বিভিন্ন হটিকালচার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিমাণে কম হলেও বছরের সবসময়ই কোনো না কোনো গাছের ফল খেতে পারি।’ তার এ বাগানের পরিচর্যা দেখে আশপাশের অনেকেই এখন ছাদ কৃষি গড়ে তুলেছেন। অনেককে তিনি চারা ও বীজ সরবরাহও করেন। ছাদ কৃষিতে সাফল্যের জন্য উপজেলা থেকে কৃষিবিভাগ থেকেও পুরস্কারও লাভ করেন বেনিইয়ামিন ভুঁইয়া।
রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, ছাদে গাছ লাগানো একটি বড় সুবিধা হচ্ছে ছাদ সব সময়ের জন্য ঠান্ডা থাকে। একদিকে পরিবেশ রক্ষা হয়, অন্যদিকে পারিবারিক সবজি চাহিদা ও পুষ্টির যোগান দেওয়া সম্ভব হয়।
আনন্দবাজার/এম.আর








