পেঁয়াজ বীজ চাষ করেই লাখোপতি হয়েছেন কুমারখালীর কৃষক আবু তালেব। তিনি একজন সফল পেঁয়াজচাষি। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের মৃত হাজি গফুর শেখের ছেলে আবু তালেব। প্রতিবছর তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করেন। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ বীজ উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। আর খরচ হয় মাত্র ৫ লাখ টাকা। খরচ বাদে আবু তালেবের আয় ২৫ লাখ।
সফল এ পেঁয়াজ চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি ২০০৩ সালে নিজ উদ্যোগে মাত্র ১৬ শতাংশ জমিতে মসলা জাতীয় ফসল ও বীজ উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রায় ২০ বিঘা জমিতে এ চাষাবাদ করছেন। তার মধ্যে ১০ বিঘা জমিতে রয়েছে পেঁয়াজ বীজ। উৎপাদন বৃদ্ধি ও বীজের গুণগত মান রক্ষায় জমিতে সেচ ও মৌ বক্স স্থাপনের মাধ্যমে পেঁয়াজ ফুলের পরাগায়ন নিশ্চিত করেন তিনি।
আরও জানা গেছে, জমির ইজারা, বীজ, কীটনাশক ও পরিচর্যায় বাবদ প্রতি বিঘায় খরচ হয় ৪০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘায় আড়াই থেকে ৩ মণ পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতি মণ বীজ প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। অর্থাৎ প্রতি বিঘায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার বীজ উৎপাদন হয়। সব মিলে তালেবের ১০ বিঘায় বীজ উৎপাদনে ৫ লাখ টাকা খরচ হয়। আর ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার বীজ উৎপাদন হয়।
কৃষক আবু তালেব বলেন, ‘কৃষি কাজের জন্য সারা বছরই বিভিন্ন ফসলের বীজ অপরিহার্য। বীজ উৎপাদনে খরচ কম, লাভ বেশি। সে হিসেব করেই বীজ উৎপাদনে চাষাবাদ শুরু করি। মাত্র ১৬ শতাংশ জমি থেকে বর্তমানে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করছি। ১০ বিঘাতে রয়েছে পেঁয়াজের বীজ। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ বীজ উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। আর খরচ হয় ৫ লাখ টাকার মতো। উৎপাদিত খরচ বাদে বছরে ২৫ লাখের মতো টাকা থাকে।’ উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা পান বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম বলেন, কৃষক আবু তালেব পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে ইতিমধ্যে জেলাব্যাপী সাড়া ফেলেছেন। জেলায় একজন সফল বীজ উদ্যোক্তা হিসেবে সুনাম রয়েছে তাঁর। বর্তমানে তাঁর ১০ বিঘা জমিতে রয়েছে পেঁয়াজ বীজ। মাঠের পর মাঠজুড়ে সবুজ পেঁয়াজখেত। এসব বীজের বাজারদর চড়া হওয়ায় চাষিরা এ বীজকে ‘কালো সোনা’ বলেও আখ্যায়িত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আবু তালেব একজন সফল বীজ উৎপাদনকারী। বীজ চাষে তিনি লাভবান হয়েছেন। তাঁর দেখাদেখি এখন অনেক কৃষক বীজ চাষে আগ্রহ বাড়িয়েছে।’








