ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি ও নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা সরিষাচাষে ঝুঁকছেন। এখাতে প্রণোদনা বাড়লে তৈল জাতীয় এ ফসলের আবাদ আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন কৃষকেরা।
পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এখন চোখ জুড়ানো হলুদ ফুলের সমারোহ। সেই সঙ্গে বাতাসে ভাসছে মৌ মৌ মিষ্টি ঝাঁঝাঁলো ফুলের ঘ্রাণ। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মৌসুমে উপজেলার কৃষি অফিস সরিষাচাষে সার, বীজ প্রণোদনা দেয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর সরিষা চাষ অনেক বেড়েছে। ইতিপূর্বে আমনকাটার পর যে সব জমি বোরো লাগানোর অপেক্ষায় পতিত থাকতো এরকম অনেক জমি এখন সরিষা ফুলে সুশোভিত। সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় আনন্দের হাসি হাসছে এলাকার কৃষকেরা। সরিষা ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত উপজেলার চক সমসের গ্রামের কৃষক বিষ্ণুপদ, হরেন্দা গ্রামের ফরমান সাহারুল, এরশাদ জানান, কয়েক বছর আগেও তাদের যে জমি পতিত থাকতো বর্তমানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপ-সহকারিদের সহযোগিতায় সেই সব জমিতে তারা সরিষা চাষে ঝুঁকছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বারী-১৪ জাতের সরিষার ফলন বেশি, সময়ও লাগে কম। এতে করে এসব জমিতে সরিষা উঠিয়ে সহজেই বোরো চাষ করা যায়। আর তখন সারও কম প্রয়োগ করতে হয়। এ ফসল আবাদের জন্য প্রথমে জমি হালকাভাবে চাষ করে তাতে বীজবপন করতে হয়। প্রয়োজনে দু-তিন বার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও যথাযথ পরিচর্যার কারণে এবার সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশে ভোজ্যতেলের স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জনে আমরা কৃষকদের সরিষাচাষে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছি।
তিনি আরোও বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫ হাজার একশত হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় তিনশ হেক্টর বেশি। চলতি মৌসুমে সরিষা চাষে প্রণোদনার আওতায় উপজেলার ১৪ হাজার কৃষককে বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.আর








