- এক বছরের সবনিম্ন ৩৯৪ কোটি টাকা
লেনদেন তলানিতে
৫৭ ভাগ কোম্পানির দর পতন, উত্থান ১৪ কোটি
সেরা ডিএসইতে বেক্সিমকো, সিএসইতে বিএসআরএম
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন মন্দায় কবলে তলিয়ে গেছে। কিছুদিন আগের হাজার কোটি টাকার লেনদেন গতকাল রবিবার চারশ কোটি টাকার ঘরে এসেছে। এদিনের লেনদেন গত এক বছর বা ২৪৯ কার্যদিবসের মধ্যে সবনিম্ন। এদিন বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। সব ধরনের সূচক কমেছে। লেনদেন, সূচক এবং অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমার একই অবস্থায় রয়েছে অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে কোনোভাবেই লেনদেনের খরা থেকে বের হতে পারছে না ডিএসই। মন্দায় কবলে তলিয়ে যাচ্ছে ডিএসইর লেনদেন। হাজার কোটি টাকার লেনদেন বর্তমানে ৪শ কোটি টাকা ঘরের কাছাকাছিতে চলে এসেছে। এ ধরনের কম লেনদেন কারণে পুঁজিবাজার তার স্বাভাবিক রূপ হারাচ্ছে। এছাড়া কমছে সব ধরনের সূচকসহ বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। দীর্ঘ মন্দায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ প্রতি অনাস্থা তৈরি হচ্ছে বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
এদিন লেনদেন, সূচকসহ অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর মন্দায় অস্বাভাবিক হিসেবে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা জানিয়ে তারা বলেন, চলতি বছরের শুরুতে উত্থানের সুবাতাশ ছিল। কিন্তু দিন বদলে উত্থান হারিয়ে পতনে চলে এসেছে। কারনবিহীন এ ধরনের মন্দা অনুসন্ধান জরুরি হয়ে পড়েছে।
পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) এদিন ৫৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৪৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সিএসইর ৬৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে। এদিন পুঁজিবাজারে ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং সিএসইর ১৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের কমাকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
এদিন বেশির ভাগে খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এদিন পেপার এবং চামড়া খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিন বস্ত্র, নন ব্যাংকিং আর্থিক, সিমেন্ট, সিরামিক, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানি শক্তি, বিমা, আইটি, পাট, বিবিধ, পেপার, ওযুধ রসায়ন, সেবা আবাসন এবং টেলিকম খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এদিন ব্যাংক, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফান্ড এবং ভ্রমন অবসর খাতের কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান-পতনে রয়েছে মিশ্রাবস্থা। কারনবিহীন পুঁজিবাজারের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর এ ধরনের হ্রাস বাঁকা চোখে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ৩৯৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এদিনের লেনদেন গত এক বছর ১২ দিন বা ২৪৯ কার্যদিবসের মধ্যে সবনিম্ন হিসেবে বিবেচ্য। এর আগে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল লেনদেন হয়েছিল ২৩৬ কোটি টাকার শেয়ার। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৫২৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৫৮টির, কমেছে ২৮০টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৪১টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩০ দশমিক ১০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৫৪ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৫ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ৫ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৪৩৫ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪৪২ দশমিক ২২ পয়েন্টে।
অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ১৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৬২টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ১৭৩টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৯টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৬৪ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩০২ দশমিক ৫২ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৪ দশমিক ২৬ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১২ দশমিক ৫০ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৩৮ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক দশমিক ১৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৩৭ দশমিক ১৫ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ৪২ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৫৮০দশমিক ৬৩ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২২৬ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে।
মন্দার এদিনে ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। অপরদিকে সিএসইতে বিএসআরএমের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে ডিএসইতে বেক্সিমকো এবং সিএসইতে বিএসআরএমের শেয়ার স্থান পেয়েছে। এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকো ৪১ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। এছাড়া এদিন সিএসইতে বিএসআরএম ১ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে সোনালী পেপার ২৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, স্যালভো কেমিক্যাল ৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, ফার্মা এইড ৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স ৮ কোটি ২১ লাখ টাকা, আইপিডিমি ফাইন্যান্স ৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, লার্ফাজ-হোল্ডসিম ৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মা ৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং ইয়াকিন পলিমার ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
এছাড়া এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডেফোডিল কম্পিউটার্স ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মা ৯৪ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক ৮৮ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ৮৮ লাখ টাকা, জেএমআই হাসপাতাল ৬৮ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ার ৪৭ লাখ টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৪৭ লাখ টাকা, বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ৩৩ লাখ টাকা এবং লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।








