পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি---
- দাম বাড়ায় কিছুটা লাভবান চাষিরা
দেশব্যাপী ভোজ্যতেল সয়াবিনের হাহাকার। এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি এ সংকট। এরই মধ্যে নতুন করে দেখা দিয়েছে নতুন সঙ্কা। এবার শুরু হয়েছে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি। অজুহাত ভারত থেকে আমদানি বন্ধের।
সরকার পেঁয়াজ আমদানির যে অনুমোদন দিয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হয়েছে ৫ মে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১ মে থেকে ৬ মে পর্যন্ত ছয় দিন স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। ফলে এপ্রিলের পর আর কোন পেঁয়াজ দেশে আসেনি। ব্যবসায়ীরা নতুন করে আবেদন করলেও তা আমলে নেওয়া হচ্ছে না। যে কারণে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ রয়েছে।
রাজধানীর খুচরা বাজারে দুদিনে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাদের, তাই বেশি দামে বিক্রি করছেন তারা। তবে আড়তদাররা বলছেন, স্থলবন্দরের আশপাশের ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। পাশাপাশি সরকার নতুন করে পেঁয়াজ ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) না দেওয়ায় দাম বাড়ছে।
কৃষি বিপণন অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী,১৫ দিন আগের ২৫-৩০ টাকার দেশি পেঁয়াজের দাম এখন ৪০-৪৫ টাকা। ভারত থেকে আমদানি করা ২৬-৩২ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন তা ৪০-৪৫ টাকা। তবে এ হিসেবের সঙ্গে মিল নেই বাজারের। আমদানি এবং দেশি উভয় ধরনের ভালো মানের পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকা কেজিতে ঠেকেছে, যা আগে ছিল ২৫-৩০ টাকা।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ২০ দশমিক ৬৯ এবং আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি দরে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা কেজি দরে। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। খাতুনগঞ্জে গতকাল প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। চার দিন আগে যার দাম ছিলো ২৯ টাকা।
কাওরান বাজারের খুচরা ও পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা আলমগীর বলেন, পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে আবার হানা দিয়েছে বৃষ্টি। যে কারণে সরবরাহ কমে গেছে। আগের মতো সরবরাহ না থাকায় আমাদের কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। এখন প্রতি কেজি পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা। আর খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। আমদানি বাড়লে পেঁয়াজের দাম কমবে বলে আশা তার। আলমগীর জানান, দেশী মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, মেহেরপুরের সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার আপাতত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে। যাতে কৃষকরা পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পায়। কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক গত বুধবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, কদিন আগেই পেঁয়াজের ভরা মৌসুমেও কৃষকরা দাম পাচ্ছিল না। এখন একটু দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা কিছুটা লাভবান হচ্ছে। তাদের দিকটাও কিন্তু আমাদের ভাবতে হবে।
কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আশা রফিকুল নামের এক ক্রেতা বলেন, কিছুদিন ধরে তেল নিয়ে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। কি এমন হলো যে তেলের দাম লিটারে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে গেলো। এখন আবার হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এমনিতেই সবকিছুর দাম বেশি, তারওপরে আবার পেঁয়াজ। এভাবে যদি একের পর এক পন্যের দাম বাড়তে থাকে তাহলে আমরা যাবো কোথায়?
এদিকে আমদানী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাহিদা বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের। দেশের বিভিন্ন মোকামগুলোতে আগে যেখানে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা ছিলো, এখন সে জায়গা দখল করে নিচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। এতে দাম বাড়তে শুরু করেছে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের। দাম বাড়ায় বেজায় খুশি চাষিরা। দাম বাড়ার বিষয়ে আড়তদাররা বলছেন, রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় দেশি পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে গেছে। পাইকাররা ভিড় জমাচ্ছেন আড়তদারদের কাছে। চাহিদা থাকায় বাড়তি দামে কিনছেন আড়ৎদাররা। আর আড়ৎদারদের থেকে কিনে নিচ্ছেন পাইকাররা।
এ বিষয়ে আড়তদাররা বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা বেশি আসায় পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি হলেও ভবিষ্যতে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাষিরা বলছেন, পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। আগের তুলনায় প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ টাকায় শুধুমাত্র উৎপাদন খরচ উঠছে। দাম যদি আরো কিছু বাড়ে তাহলে আমরা লাভবান হতে পারবো।








