বগুড়ার নন্দীগ্রামে ১৫ দিন সময় বাড়ানো হয়েছিল চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের। কিন্তু সময় বাড়িয়েও সফল হয়নি অভিযান। খাদ্য বিভাগ এ ব্যর্থতার জন্য পুরোপুরি দায়ী করছে চুক্তিভুক্ত মিলারদের। কিন্তু মিলাররা বলছে, বাজারমূল্য অনেক বেশি হওয়াতে এই অভিযান ব্যর্থ হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্র জানা গেছে, এবারের ইরি-বোরো মৌসুমে কেজিতে ২৬ টাকা মূল্যে ২ হাজার ৫৮৮ মেট্রিক টন ধান এবং ৩৬ টাকা মূল্যে ৩ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ওই উপজেলায় ২৭ জন অটো ও হাসকিং চালকল মালিক খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। গেল ৩১ আগস্ট শেষ দিন ছিল ধান-চাল সংগ্রহের।
ফলে সংগ্রহ সন্তোষজনক না হওয়াতে খাদ্য বিভাগ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাত্র চাল সংগ্রহ হয়েছে ১৭০০ টন। আর ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ২২০০ টন।
খাদ্য বিভাগে সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারিভাবে প্রতিকেজি চালের মূল্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারমূল্য ছিল ৪০-৪২ টাকা। আর ধান প্রতিকেজি ২৬ টাকা। কিন্তু চাষিদের এ মান নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে কেজিতে ধানের মূল্য পড়বে ২৮-২৯ টাকা। তাই তারা ধান-চাল বেশি মূল্যে হাট-বাজারে বিক্রি করেছেন। ফলে মিলাররা কৃষকদের কাছ থেকে চাল-ধান কিনতে না পেরে খাদ্য বিভাগে সরবরাহ দিতে পারেনি। এতে খাদ্য বিভাগের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
এই ব্যাপারে উপজেলার চাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, খাদ্য বিভাগে চাল সরবরাহ করার জন্যই মিলাররা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। তবে সরকারি দরের চেয়ে বাজারে ধান-চালের মূল্য অনেক বেশি ছিল। এ কারণে খাদ্য বিভাগের সাথে চুক্তি পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
খাদ্য পরিদর্শক আশরাফুল আরেফিন জানান, ১৫ দিন সময় বাড়িয়েও চলতি ইরি-বোরোর ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান সফল হয়নি। তবে চুক্তি করেও মিলাররা চাল না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে








