দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব ধরনের সূচক পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন কমেছে ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। গতকাল সোমবার স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দুই পুঁজিবাজারে সব ধরনের সূচক কমেছে। এদিন শেয়ার বিক্রয়ের চাপ বেশি ছিল। ফলে এদিন দুই স্টকের ৬৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৭১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং সিএসইর ৬৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। দুই স্টকের ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থানে হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সিএসইর ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়েছে।
এদিন (সোমবার) ডিএসইতে সিমেন্ট খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এরপর জ্বালনি শক্তি খাতের ৯৬ শতাংশ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৮৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এরই ধরাবাহিকতায় বিমা খাতের ৮৫ শতাংশ, নন ব্যাংকিং আর্থিক খাতের ৮৩ শতাংশ, আইটি খাতের ৮২ শতাংশ, সেবা আবাসন খাতের ৭৫ শতাংশ, পেপার খাতের ৬৭ শতাংশ, চামড়া খাতের ৬৭ শতাংশ, বস্ত্র খাতের ৬৭ শতাংশ, বিবিধ খাতের ৬৪ শতাংশ, ওযুধ রসায়ন খাতের ৬২ শতাংশ, ব্যাংক খাতের ৬২ শতাংশ এবং খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ৫২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর পতন হয়েছে।
ডিএসইতে পাট এবং টেলিকমিউনিকেশন খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এই দুই খাতের ৬৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। গত দুই কার্যদিবস ধরে পুঁজিবাজারের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমা এবং সব ধরনের সূচক পতনকে কেন্দ্র করে এক ধরনের বৈরি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যা বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজার প্রতি বিনিয়োগে আগ্রহ ভাটা পড়তে পারে বলেও মনে করছেন বিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস রবিবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪৮২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৭১টির, কমেছে ২৭০টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৯টির।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৯ দশমিক ২৫ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ দশমিক ১৮ পয়েন্ট ও ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৩ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৬১৪ দশমিক ২৬ পয়েন্টে ও ১ হাজার ৫০৫ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্টে। টাকার অংকে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, বেক্সিমকো, পাওয়ার গ্রীড, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ফু-ওয়াং ফুড, এপেক্স ফুড, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস, ফরচুন সুজ, লিন্ডে বিডি।
অপর পুঁজিবাজারে সোমবার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস রবিবার লেনদেন হয়েছিল ৩৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১১টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৬৩টির, কমেছে ২১৩টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৫টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৪৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৫২ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৮ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৯৫ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৮৯ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট ও সিএসআই সূচক ৪ দশমিক ১৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৫২১ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ২৪৭ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে, ১২ হাজার ৩৪৬ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে ও ১ হাজার ২৮৯ দশমিক ৭১ পয়েন্টে।
আনন্দবাজার/শহক








