মাচার ওপরে সবুজ লাউ গাছ। নিচে ঝুলছে শত শত লাউ। দেখলেই নয়ন জুড়িয়ে যায়। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মহিধরপনের বাড়ি গ্রামের কৃষক নুর মোহাম্মদ এ লাউ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। গত একদশকে থেকে লাউচাষের উপার্জিত অর্থ দিয়ে কিনেছেন ১৬ শতাংশ জমি। তাতে নির্মাণ করেছেন টিনসেড একটি বাড়িও।
স্থানীয়রা জানান, ভূমিহীন ছিলেন লাউ চাষি নুর মোহাম্মদ। তিনি গত দশ বছর ধরে লাউ চাষ করে আসছেন। প্রথমে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অন্যের জমিতে লাউ চাষ শুরু করেন। বর্গা নেয়া জমিতে লাউ চাষ করে প্রথমবারাই আয় করেন এক লাখ টাকা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। প্রতিবছর লাউ বিক্রি থেকে উপার্জিত অর্থ জমিয়ে কিনেছেন ১৬ শতাংশ জমি।
এ বিষয়ে লাউ চাষি নুর মোহাম্মদ বলেন, লাউ চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। এ মৌসুমে ৩৩ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছি। লাউয়ের ফলনের পাশাপাশি বাজার দরও ভালো। ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ধরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ লাউ বিক্রি করেছি। মাচায় এখনো রয়েছে প্রায় ১৪০০ লাউ। আরও ৪০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবো। খরচ বাদে ৫৫ হাজার টাকা আয় হবে বলে জানান তিনি।
একই এলাকার কৃষক প্রতিবেশী আরিফুল বলেন, নুর মোহাম্মদ ভাই অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। উনার জায়গা জমি কোন কিছুই ছিলো না। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি লাউ চাষ করে লাভবান হয়ে আসছেন। লাউ বিক্রির টাকায় জায়গা জমি কিনেছেন। আমিও তাকে অনুসরণ করে লাউ চাষের চেষ্টা করছি।
নুর মোহাম্মদের স্ত্রী নুরজাহান বলেন, আমরা ভূমিহীন ছিলাম। অন্যের জমিতে বসবাস করতাম। তখন আমরা খুবই অসহায় ছিলাম। পরে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আমার স্বামী নূর মোহাম্মদকে দেই। তিনি চাষের জমি বর্গা নিয়ে সেখানে লাউ চাষ শুরু করেন। গেল ১০ বছর ধরে লাউ চাষ করে আয়ের টাকা দিয়ে ১৬ শতাংশ জায়গা কিনেছি। আধাপাকা টিনসেড বাড়ি করেছি। আগের দিনের কষ্টের কথা মনে পড়লে কান্না চলে আসে। আল্লাহ তায়ালার রহমতে এখন আমরা অনেক ভালো আছি।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামার বাড়ি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ৯ উপজেলার ৭ হাজার হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে শাকসবজির চাষ হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা দধিচি মোহন বৈষ্ণব জানান, উপজেলায় এ মৌসুমে ৭৭২ হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪০৮ হেক্টর জমিতে শাকসবজির চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ৫৭ হেক্টর জমিতে লাউয়ের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার লাউয়ের ভালো ফলন হবে বলে জানান তিনি।
আনন্দবাজার/এজে








