করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলায়। আমদানি রপ্তানী কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চললেও ব্যবসায়ীরা রয়েছেন আতঙ্কে। আমদানিকারকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে যাতায়াত ও ইমপোর্ট পারমিশান (আইপি) বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে পুরাতন মোংলার ব্যবসায়ীদেরও ব্যবসা বাণিজ্য স্থবিরতা নেমে এসেছে। গত কয়েকদিন ধরেই ব্যবসা বাণিজ্যের উপর বিরুপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানান তারা। এদিকে করোনার প্রভাবকে পুঁজি করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যে বাড়িয়ে দিচ্ছেন এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী।গত কয়েকদিনে অসাধু চক্রের প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। জরিমানাও করা হয়। তাতেও স্বস্তি ফিরছেনা বাজারে।
মোংলা শহরের আইসিটি ব্যবসায়ী মো. বাবুল হোসেন জানান, করোনার প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে ব্যবসা বাণিজ্য ধস নেমেছে। আগের মত গ্রাহক তেমন একটা আসেনা। সরকারি নিষেধাজ্ঞা কারনে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আগের মত কাজ নেই।
আরেক ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান দুলাল জানান, আমার ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে এখন আর আগের মত কাজের অর্ডার পাচ্ছিনা। এখন দৈনিক ভিত্তিতে শ্রমিকদের বেতন দিতেও সমস্যা হচ্ছে।
এদিকে করোনার আতঙ্কে শহরের রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা। অধিকাংশ দোকান ও বিতানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা নেই। সবকিছুইতেই এক ধরনের নীরবতা। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেনা। এদিকে দূর পাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহনেও তেমন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছেনা বলে জানান বাস মালিক সমিতির এক প্রতিনিধি। এ অবস্থায় অনেকে গণপরিবহন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান তিনি। এদিকে করোনা ভাইরাসের কারনে সুন্দরবনে পর্যটকদের ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বনবিভাগ।
পাশাপাশি বনের উপর নির্ভরশীল মানুষের চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে বনবিভাগ। অন্যদিকে মার্চ মাসের শুরু থেকে বিদেশ থেকে মোংলায় ফেরত আসা ২১৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি বিদেশ থেকে আসা এ সকল লোকজনকে তাঁদের নিজ নিজ বাড়ীতে থাকতে বলেছে স্থানীয় প্রশাসন। করোনা সংক্রমণ রোধে বিদেশ থেকে আসা লোকজন যাতে নিজ বাড়ি-ঘর থেকে বের না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এবং ওই এলাকাগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সজাগ রয়েছেন এলাকাবাসীও। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে কেউ বাইরে ঘুরাঘুরি করলে তাঁর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আনন্দবাজার/এফআইবি







