- নিরাপত্তা ও রোড টু মক্কা চুক্তি সই
- পাসপোর্ট নবায়নে যৌথ গ্রুপ গঠনে প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিলম্বে অর্থ প্রদান শর্তে সৌদি আরবের কাছে তেল চেয়েছেন। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী ড. নাসের বিন আব্দুল আজিজ আল দাউদ গতকাল রবিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও সৌদি আরবের সহায়তা চেয়েছেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে উভয় নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
সৌদি উপমন্ত্রী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয় উত্থাপন করেন। পাসপোর্ট নবায়নে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে তার সম্মতি দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলেন।
সৌদি উপমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসামান্য উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী দুটি পবিত্র মসজিদের খাদেম, বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদ এবং ক্রাউন প্রিন্স ও সৌদী প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অনেক দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি থমকে গেছে। এ সময় ড. নাসের বিন আবদুল আজিজ আল দাউদ এক্সপো ২০৩০ এ সৌদি আরবকে বহুপাক্ষিক সহায়তা দেয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, মুখ্য সচিব ডক্টর আহমদ কায়কাউস, সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. জাবেদ পাটোয়ারী এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত এসা ইউসুফ এসা আলদুহাইলান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এদিকে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী নাসের বিন আব্দুল আজিজ আল দাউদ। সকাল সোয়া ১০টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক হয়।
সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি সচিবালয়ে এসে পৌঁছায়। এরপর তাদের গার্ড অব অনার ও লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ছিলেন জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রায় ২৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী এবং মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গসহ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দিতে বা নবায়ন করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এনআইডিসহ যা যা লাগবে, সেগুলো দেখিয়ে যারা পাসপোর্ট পাওয়া ও নবায়নের যোগ্য, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সৌদি আরবে রোহিঙ্গারা তিন প্রজন্ম ধরে অবস্থান করছেন। পাকিস্তান আমল থেকে তারা সেখানে আছেন। বাংলাদেশ থেকে যেসব রোহিঙ্গা নিজেদের ম্যাকানিজমে বিশেষ বিবেচনায় গিয়েছিলেন তাদের বিষয়ে কী করা যায় সেটা তারা খতিয়ে দেখবেন। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আরও জোরদার করতে সৌদি আরবের সহযোগিতা চেয়েছি আমরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, উভয় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়াতে 'নিরাপত্তা সহযোগিতা' এবং হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে বৈঠকে 'রোড টু মক্কা' নামে দুটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সৌদি প্রতিনিধি দল তাদের দেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর জোর দিয়েছে। জবাবে আমরা জানিয়েছি, শ্রমিকদের দক্ষ করে তুলতে বাংলাদেশ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ব্যবস্থা সহজ করার অনুরোধ জানিয়েছি।
বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক চাকরি ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন ও অবস্থান করছেন।
সাইবার সিকিউরিটি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সাইবার চ্যালেঞ্জ। সৌদি কর্তৃপক্ষও এটা মনে করে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যৌথভাবে কীভাবে কাজ করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
তা ছাড়া প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সন্ধ্যায় তিনি সৌদি আরব ফিরে যান।
আনন্দবাজার/শহক








