বিক্রির চাপে ৬৪ ভাগ দর পতন
পাট, পেপার ও টেলিকমে শতভাগ পতন
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন কমে ৮শ কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছে। এদিন কোম্পানির শেয়ার ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা অনেক বেশি ছিল। বিক্রির চাপে এদিন ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। সূচক পতনের একই অবস্থা অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। বিক্রির চাপে এদিন ৬৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। তবে আগের কার্যদিবস থেকে এদিন লেনদেন পরিমাণ বেড়েছে। রেগুলেটরদের বিভিন্ন উন্নয়ন পরও দীর্ঘ সময় পুঁজিবাজার পতনের কবলে। সেই পতন রোজায় আরো বেড়েছিল। ওই পতনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নীরবে কেঁদেছে বলে জানান পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, বিভিন্ন মহলের চেষ্টায় দীর্ঘদিন পর ঈদের আগের কয়েকদিন পুঁজিবাজার উত্থানে ছিল। সেই সময় লেনদেন, শেয়ার দরসহ সূচক চাঙ্গা ছিল। চাঙ্গায় শেয়ার লসে বিক্রয় করা থেকে বিরত ছিল অনেকেই। ফলে পুঁজিবাজারে ক্রয় চাপ বেড়েছিল, বিক্রয় চাপ কমেছিল। কিন্তু গত তিন কার্যদিবস তার উল্টো গতি ছিল পুঁজিবাজার। ফলে পতনে রয়েছে সব ধরনের সূচক। কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর। পতন কারনে পুঁজিবাজারে শেয়ারের বিক্রয় চাপ ব্যাপক হারে বেড়েছে।
পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) এদিন ৬৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং সিএসইর ৬৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। এদিন পুঁজিবাজারে ২৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং সিএসইর ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। গত তিন দিন ধরে দুই স্টকে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হচ্ছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে এই ধরনের কমা অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইতে এদিন পাট, পেপার এবং টেলিকম খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিন ব্যাংক, বস্ত্র, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানি শক্তি, বিমা, সিমেন্ট, বিবিধ, আইটি, সেবা আবাসন, চামড়া এবং ভ্রমন অবসর ফান্ড খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিন সিরামিক খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমার একই চিত্র ছিল সিএসইতেও। দুই স্টকের এ ধরনের হ্রাসকে অস্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসইতে গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ৮২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার। গত বুধবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮১টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৯১টির, কমেছে ২৪২টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৪৮টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৬ দশমিক ৫২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৬৫ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৩ দশমিক ৭২ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ২৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৪০৬ দশমিক ৯১ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪৩২ দশমিক ১৭ পয়েন্টে।
এদিনে ডিএসইতে জেএমআই হসপিটালের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন ডিএসইতে জেএমআই হসপিটাল ৪৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। ডিএসইতে এদিন লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে শাইনপুকুর সিরামিকস ৪১ কোটি ২ লাখ টাকা, এসিআই ফরমুলেশন ৩৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ২৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা, আরডি ফুড ২৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা, সালভো কেমিক্যাল ১৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ১৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ইস্টার্ন হাউজিং ১৪ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ইউনিক হোটেল ১৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
অপরদিকে চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। গত বুধবার লেনদেন হয়েছিল ২৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯২টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৬৮টির, কমেছে ১৯২টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩২টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৮১ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ২৪৮ দশমিক ৬১ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৬ দশমিক ৮১ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৬৭ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৪৮ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৩ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪২২ দশমিক ৪০ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৮৬২ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৫৫০ দশমিক ২৪ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২১৩ দশমিক ৮১ পয়েন্টে।
সিএসইতে এদিন শাইনপুকুর সিরামিকস ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে জেএমআই হসপিটাল ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা, এসিআই ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ১ কোটি ৭ লাখ টাকা, বিডি কম ৮৯ লাখ টাকা, নাহি এ্যালুমিনিয়াম ৭৭ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মা ৭৬ লাখ টাকা এবং রবি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
আনন্দবাজার/শহক








