বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বগুড়ার যমুনা নদীর চরে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চরে চাষ করা ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। এতে কৃষকসহ স্থানীয়দের মুখে হাসি ফুটেছে।
জানা যায়, সোনাতলা উপজেলার তেকানি চুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকায় যমুনা নদীর চরাঞ্চল রয়েছে। পাশাপাশি সোনাতলা ও জোড়গাছা ইউনিয়নেও রয়েছে বাঙ্গালী নদীর চর। চরে চাষাবাদকৃত ফসলের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মরিচ, পাট, ভুট্টা, কাউন, খেসারি ডাল ও বাদাম। সোনাতলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী যমুনার চরাঞ্চলে প্রায় ১৮৯০ হেক্টর জমিতে ফসলের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে পাটের চাষ হয়েছে সর্বোচ্চ ৮৬০ হেক্টর জমিতে। পাশাপাশি মরিচের চাষ হয়েছে ৬৫০ হেক্টর, ভুট্টা ১৫০ হেক্টর, কাউন ৫ হেক্টর, বাদাম ৩২ হেক্টর ও ৭ হেক্টর জমিতে।
কৃষকদের মাঝে মরিচ চাষে আগ্রহ অনেক বেশি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার চরাঞ্চলে মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। চলতি মৌসুমে সোনাতলা উপজেলায় ১০০৫ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় বিক্রি হয় এখানে উৎপাদিত মরিচ। বর্তমানে মরিচ উৎপাদক থেকে বিক্রেতা পর্যন্ত সবাই ভালো দর পাচ্ছেন।
মরিচ চাষি বজলুর রহমান বলেন, আমি প্রায় ৬ বিঘা জেিমত মরিচের চাষ করেছি। মৌসুমের শুরুতে মরিচের দর কম থাকলেও এখন ভালো দর পাচ্ছি। কৃষক জামরুল ইসলাম বলেন, বন্যার পর প্রতিবছর মরিচ চাষ করি। তাতে বছরের অন্যান্য সময়ের ঘাটতি কিছুটা উঠে আসে। তবে ভেজাল সার, কীটনাশক ও মানহীন বীজ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে সোনাতলা উপজেলায় পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫৫০ হেক্টর। চাষাবাদ হয়েছে প্রায় ১৮৪০ হেক্টর জমিতে। যমুনার চরে পাট চাষ হয়েছে প্রায় ৮৬০ হেক্টর জমিতে। তবে চলতি বছরের বন্যায় পাটের ক্ষতি কম হয়েছে। অন্যান্য সময়ে বন্যায় পাটের জাগ স্রোতে ভেসে গেলেও এবার তা হয়নি। বিঘাপ্রতি পাটের উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ থেকে ১১ মণ। চরে চাষকৃত অর্থকরি ফসলের মধ্যে ভুট্টা অন্যতম। চলতি মৌসুমে যমুনার চরে ১৫২ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। চরাঞ্চলে চাষকৃত ফসলের মধ্যে অন্যতম বাদাম।
সোনাতলা উপজেলার যুমনার চরে এ বছর ৩২ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। চরাঞ্চলের বালিযুক্ত মাটিতে বাদামের ফলন ভালো হয়। বন্যার স্রোতে ভেসে আসা পলিমাটি চরের জমিতে পড়ে উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। রবি ও খরিপ উভয় মৌসুমে চাষ করা যায় বাদাম। তবে চরে শুধু রবি মৌসুমেই এ ফসল চাষ হয়। রবি মৌসুমে প্রতি হেক্টরে প্রায় ২.০-২.২ টন ফলন হয়। পাশাপাশি চরে খেসারি ডাল আবাদ হয়েছে প্রায় ৩৫ বিঘা জমিতে। বর্তমানে পাখির অন্যতম খাদ্য খেসারি ডাল। চাষি সুমন মিয়া বলেন, সাড়ে চার বিঘা জমিতে খেসারির চাষ করেছি। প্রতিবিঘায় ফলন হয়েছে ৭ থেকে ৮ মণ করে।
কৃষকরা জানায়, ২০২০ সালে দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় বহু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। তবে ২০২১ সালে বন্যা ছিল ক্ষনস্থায়ী। চরে খুব একটা ভাঙ্গণ হয়নি। দ্রুত পানি কমে যাওয়ার কারনে কৃষক সময়মত ফসল ফলাতে পেরেছেন। বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারনে ফসলের ক্ষতি কম হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ আহমেদ বলেন, চরের বাসিন্দারা যথেষ্ট পরিশ্রমী ও ফসল উৎপাদনে আগ্রহী। এ বছর ক্ষণস্থায়ী বন্যা হওয়ার কারনে তারা অনেক ধরনের ফসল করেছে এবং ভালো দাম পাচ্ছেন। চরে মরিচ, পাট, খেসারি ডাল, ভুট্টা, বাদাম, মাষকলাই ও রোপা আমনসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষ হয়। চরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আমাদের সমগ্র দেশে প্রভাব ফেলেছে।
আনন্দবাজার/এম.আর








