কুড়িগ্রামে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রান্তিক চাষিরা যেভাবে আলু চাষে ঝুঁকছেন তাতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকরা আলুক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে সার ও ওষুধের দাম বেশি হওয়ায় চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদন ব্যয় বাড়ার শংঙ্কা রয়েছে। কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের আলু চাষি মামুনুর রশীদ জানান, বিগত বছর আলু চাষে লোকসান হলেও চলতি বছর তিনি আবারও আট একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবারও লোকসানের আশঙ্কা করছেন এ কৃষক। কৃষকদের স্বার্থে আলুর ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে সরকারের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেন তিনি।
সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আলু চাষি গোলজার মেম্বারের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গতবছর লোকসান গুণলেও চলতি বছর বীজের দাম কিছুটা কম হওয়ায় আবারও ১০০ একর জমিতে আলু চাষ করেছি। তবে মৌসুমের এ সময় সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার খরচ আরও বেশি হয়েছে। সরকার সহায়তা না করলে আলু চাষিরা এবছরও লোকসানের মুখে পড়বে। আলুর ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ ও রফতানির সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হলোখানা ইউনিয়নের সুভারকুটি গ্রামের কৃষক মোস্তফা কামাল জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে চলতি বছর আমি ও আমার চাচাত ভাই ১২ একর জমিতে আলু চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত গাছ ভাল দেখা যাচ্ছে। আলুর ফলন ও দাম ভালো হলে চাষিরা লাভবান হবেন। তবে সরকার যদি আলু বিদেশে রফতানি করার সুযোগ দেয় তাহলে আলু চাষিদের লোকসান গুণতে হবে না।
এ বিষয়ে খামার বাড়ি কুড়িগ্রামের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, এ অঞ্চলের মাটি আলু চাষের উপযোগি হওয়ায় চাষিরা ব্যাপকহারে আলু চাষাবাদ করছেন। কৃষি বিভাগে প্রত্যাশা চলতি বছর জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হবে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। মৌসুমের শৈত্যপ্রবাহ মোকাবিলা করাসহ প্রয়োজনীয় কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগের বিষয়ে আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি চলতি বছরও জেলায় আলুর ফলন ভালো হবে। কৃষকদের দাবির কথা বিবেচনা করে আলুর বাজারমূল্য নির্ধারণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
আনন্দবাজার/এম.আর








