ইউরোপের দেশগুলো করোনা প্রতিরোধে ‘লকডাউন’ জারি করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। লকডাউনের কারণে ইউরোপে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেয়েছে ৩০ লাখ প্রাণ। লন্ডনের ইমপিরিয়াল কলেজের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠেছে।
ওই গবেষক দল জানান, লকডাউন না হলে মৃতের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেতো। তারা হুঁশিয়ার করেছে, কেবলমাত্র অল্পসংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হয়েছে ও আমরা এখনো মহামারির শুরুতে রয়েছি।
গবেষণায় নেতৃত্ব দেয়া সামিরভাট সোমবার (০৮ জুন) সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে জানান, সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা উঠিয়ে নিলে দ্বিতীয় ধাপে অনেক মানুষ মারা যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
লকডাউনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশই নতুন কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা কমায় বিধিনিষেধ শিথিল করা শুরু করেছে।
ইমপেরিয়াল কলেজের এ গবেষণায় ১১টি ইউরোপীয় দেশের লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পদক্ষেপগুলোর প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলো যথেষ্ট পরিমাণে প্রভাব ফেলেছিল। এর ফলেই মে মাসের শুরুর দিকে সংক্রমণ কমাতে থাকে।
ভাট জানান, ঝুঁকি শেষ হয়ে গেছে আর দেশগুলোর বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এসে পড়েছে – এখনই এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। কারণ মহামারির প্রথম ধাপেই আছি আমরা।
ইমপেরিয়ালের গবেষণা দলটির হিসাবে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ব্রিটেন, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, যা দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশ।
গবেষণার মডেল অনুসারে লকডাউন থাকার ফলে প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু এড়ানো গেছে।
ন্যাচার সাময়িকীতে প্রকাশিত অন্য গবেষণায় বলা হয়েছে– চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, ইরান, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন জারির কারণে ৫৩ কোটি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে বেঁচে গেছে।
গবেষকরা বলছেন, লকডাউন ব্যবস্থা জারির পূর্বে ভাইরাসের সংক্রমণ ইরানে দিনে ৬৮ শতাংশ হারে এবং অন্য পাঁচটি দেশে ৩৮ শতাংশ হারে বেড়েছে।
আনন্দবাজার/এফআইবি








