পাট ছিল বাংলাদেশের সোনালি আঁশ। সেই পাট আবার কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে যায়। প্লাস্টিকের কবলে পাট তার স্বর্ণালী সময় হারিয়ে ফেলে। সেই সোনালি আঁশ তার পুরনো গৌরবে ফিরছে এমন আশার সংবাদ দিয়েছে দৈনিক আনন্দবাজার। প্লাস্টিক ব্যাগ সারাবিশ্বের পরিবেশ বিনষ্ট করছে। পরিবেশ বিষিয়ে তুলছে। পৃথিবী নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পৃথিবীর তলদেশ প্লাস্টিকের দূষণে ভারী হয়ে উঠেছে। তারপরও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমছে না। আমাদের দেশও এর বাইরে নয়। আমাদের দেশে যেভাবে যে মানের প্লাস্টিক সামগ্রী, ব্যাগ, পলিথিন ব্যবহৃত হয় তা কোনো সভ্য দেশে ব্যবহার হয় না। প্লাস্টিক সামগ্রী, পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার এত বেশি পরিমাণ এবং যত্রতত্র হচ্ছে যা পুরো দেশের উর্বর মাটিকে নষ্ট করছে। মাটির তলদেশ ধ্বংস করছে। পানি পর্যন্ত দূষিত করছে।
নদী, খাল, বিল সবকিছুই পলিথিন দিয়ে ভরে যাচ্ছে। এর ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে। পানি দূষিত হচ্ছে। এ শুধু নদী, নালা, খাল, বিল, আবাদি জমির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এই পলিথিন ছড়িয়ে পড়েছে সাগর, মহাসাগর পর্যন্ত। পরিবেশবিদদের অভিযোগ এভাবে চলতে থাকলে পুরো পৃথিবী পলিথিনের প্রভাবে নষ্ট হবে। পৃথিবীর ভারসাম্য থাকবে না। মাটি তার স্বাভাবিক অবস্থা হারিয়ে ফেলবে। এ অবস্থায় পাট পচনশীল এবং পরিবেশবান্ধব। পাটের ব্যবহার আগে যেভাবে হয়েছে প্লাস্টিক, পলিথিন সেভাবে ব্যবহার না করে যদি পাট আগের অবস্থায় ফিরে আসে তবে পরিবেশ রক্ষা পাবে। পৃথিবী রক্ষা পাবে। ফলে পাটের চাহিদা বিশ্বজুড়ে আবার বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত। ভারত এন্টিডাম্পিং করে পাটের বাজার নষ্ট করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় পাটের উৎপাদন বাড়াতে হবে। পাটে সরকারের দেয়া প্রণোদনা এবং ভর্তুকিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।
ভারতের পাটের বীজের বদলে নিজেদের বীজ ব্যবহার বাড়াতে হবে। গবেষণা করে পাটের উন্নত বীজ আমাদের দেশে করতে হবে। ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে চীনে পাটের রপ্তানির যেসব প্রতিবন্ধকতা আছে তা দূর করতে হবে। চীন ছাড়াও নতুন বেশকিছু দেশে পাট রপ্তানির জন্য খুঁজতে হবে। যাতে করে পাটের মূল্য আরও বাড়ানো সম্ভব হয়। পাট নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। পাট নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। পাট মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে। সেই সঙ্গে সোনালি আঁশের দিন ফেরাতে হলে পাটশিল্পকে জাগিয়ে তুলতে হবে। এজন্য পাটচাষের ক্ষেত্রে চাষিদের উৎসাহ দিতে হবে। প্রয়োজনে প্রণোদনার বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। পাটচাষিদের ঋণসহায়তার মধ্যে আনতে হবে। গেল দুই দশক ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র আকারে পাটশিল্প গড়ে উঠেছে। যারা পাটের সামগ্রী উৎপাদন করছে। বাজারে চাহিদাও যথেষ্ট রয়েছে সেসব সামগ্রীর। তবে নানা সংকটের কারণে স্থানীয় পর্যায়ের পাটশিল্প উৎপাদন কমিয়ে ফেলছে। যারা এসব শিল্পে কাজ পেয়েছিল, তারাও বিপাকে পড়েছেন।
বিশেষ করে নারী শ্রমজীবীদের শ্রমের ওপর ভিত্তি করেই উত্তর জনপদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র্র পাটকল গড়ে উঠেছে বিগত সময়ে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচামালের সংকটসহ বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে সেসব শিল্প ঘিরে খানিকটা হতাশা তৈরি হয়েছে। পাটকে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করাতে হলে সেদিকে নজর দিতে হবে।








