কৃষিতে সুদিন ফেরানোর উদ্যোগ
জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে কৃষিতে সুদিন ফেরাতে সাতক্ষীরা পৌর এলাকার মাছখোলা গদাই বিলে সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত বুধবার গদাই বিল বেড়াডাঙ্গা ¯øুইচ গেট সংলগ্ন ১০টি সেচ পাম্প বসিয়ে পানি অপসারণের উদ্বোধন করা হয়। সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কায়ছারুজ্জামান হিমেলের নেতৃত্বে ও গদাই বিল সুরক্ষা কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় করেন সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি।
সাতক্ষীরা পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডসহ মাছখোলা গদাই বিল এলাকার প্রায় ১ হাজার একর কৃষি জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকে। জলাবদ্ধতার কারণে সারাবছরই এ এলাকার মানুষজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অতীতে এ এলাকার মানুষ কৃষিজমিতে ফসল ফলাতে পারতো। বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীর জমি অবৈধদখল, নেট-পাটা এবং অপরিকল্পিত মৎস্যঘেরের কারণে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এজন্য কৃষক ফসল ফলাতে পারছিলো না। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে এলাকার মানুষের দূর্বিসহ জীবন যাপন করতে হয়। প্রাথমিকভাবে এ দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে সেচ পাম্প’র মাধ্যমে পানি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পানি অপসারণের উদ্বোধনকালে পৌর মেয়র বলেন, সাতক্ষীরার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ জলাবদ্ধতায় বিশেষ করে আমাদের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড প্রতিবছর বর্ষামৌসুমে পানিতে তলিয়ে যায়। গদাইবিল মাছখোলা অঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি থাকে। অতিবর্ষণের ফলে অল্পতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০টি সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আশাকরি এলাকাবাসী অচিরেই পানি মুক্ত হবে।
এ সময় গদাই বিল সুরক্ষা কমিটির সভাপতি মঞ্জুর হোসেন বলেন, মাছখোলার ১ হাজার একর এ গদাই বিলের এরিয়া। এছাড়া শ্যাল্যে-মাছখোলা, গোপিনাথপুর-তালতলা, কাটিয়া এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। যদি পানি নিষ্কাসন করতে পারি তাহলে বোরো চাষের পাশাপাশি আমন চাষও সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, কৃষি সেচ প্রকল্পে রেট ৪. ১৭ টাকা পার ইউনিট, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আমাদের কাছ থেকে নিচ্ছে বাণিজ্যিক হারে ৭ টাকা ইউনিট। কৃষি সেচ প্রকল্পের রেট ৪.১৭ টাকা পার ইউনিট নিলে কৃষকরা উপকৃত হবে।
এসময় গদাই বিল সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছোলাইমান আহমেদ বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের এলাকায় ধান চাষ হচ্ছে না। আমাদের দাবী বেতনা-মরিচ্চাপ নদী কাটানো হোক। আমাদের প্রধান ফসল হলো ধান। আমরা ধান চাষ করতে চাই। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই। তাহলে সুষ্ঠভাবে আমরা ৩টি ফসল করতে পারবো। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
আনন্দবাজার/এম.আর








