দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীগঞ্জ, দেবীডুবা ও সোনাহার ইউনিয়নের প্রধানপুর, দেবীডুবা, ও দাড়ারহাট মৌজায় ২১৭.৭৮ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। আজ সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নিকট চুক্তি স্বাক্ষর এবং দলিল সম্পাদন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) পক্ষে সহকারী ব্যবস্থাপক একেএম আনোয়ার দলিলে স্বাক্ষর করেন।
জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজাহারুল হক প্রধান,পঞ্চগড় জেলার করোনার সমন্বয়কারী ভূমি সচিব মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী, বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা ভার্চুয়ালি,পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) পক্ষে সহকারী ব্যবস্থাপক একেএম আনোয়ার, দেবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চিশতি, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রত্যয় হাসান ও দেবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী বক্তব্য দেন।
ওই অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী আডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন, এমপি ঢাকা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যেমে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা এবং দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার কিন্তু তাকে হত্যার পর সেই স্বপ্ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তাঁরই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দেশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিতে এগিয়ে থাকা দেশকে এখন শিল্প বিপ্লবের দিকে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য সরকার সারাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নানা পণ্যের চাহিদাও বাড়বে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সবসময় সচল থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে কেবল চাকরির পেছনে ছোটা উচিত নয়, পরিবর্তে তারা উদ্যোগ নিতে পারে। তিনি আরও যোগ করে বলেন, "আমাদের এদিকে নজর রেখে কাজ করছে সরকার। কোনও সন্দেহ নেই যে আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর, তবে একই সাথে আমাদের শিল্পায়ন প্রয়োাজন। কারণ, কোনও দেশ শিল্পায়ন ছাড়া অগ্রগতি করতে পারে না। অবশ্য দেশের জমির পরিমাণ কম হলেও সচ্ছল জনগণের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আবাদযোগ্য জমি বাঁচানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
কৃষকের পণ্যের নায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশে দেশব্যাপী শিল্পের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সরকার। অনঅগ্রসর অঞ্চলসহ নানা এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তথা শিল্পনগর গড়ে তুলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে বর্তমানে সরকার কাজ করছে। দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির গতি আরও গতিময় করতে আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলিতে বিনিযোগ করতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের, বিশেষত যুবকদেরকে উৎসাহিত করার কাজ করছে বেজা। বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ স্থানান্তরের যে প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে কর্মকৌশল এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য কাজ করছে সরকার ও বেজা।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে/ এস এম আর








