তিস্তার চরে পানি বৃদ্ধি
নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তার চরাঞ্চলের চাষিরা নিঃশ্বাস দীর্ঘ হচ্ছে। চৈত্র মাসে ঘন ঘন বর্ষণের সঙ্গে ভারত থেকে আসা উজানের ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলসমূহ পানিতে টইটুম্বুর হয়েছে। কিছু কিছু চরাঞ্চলে নিম্নাঞ্চলে ফসল পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ঘন বর্ষণ আর তিস্তায় পানি বৃদ্ধিতে ভুট্টাক্ষেতে ছত্রাকজনিত নানা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গাছের গোড়ায় পচন ধরেছে। চরাঞ্চলের জমিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এ রোগটি। এতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ছে। ভুট্টাদানায় পোকা ধরে হেলে পড়েছে মোচা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চর কিসামত, চর খড়িবাড়িসহ তিস্তার বিভিন্ন চরাঞ্চলের উচ্চ ফলনশীল ভুট্টায় ছত্রাকজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত জমির ভুট্টা গাছে কৃষকরা ছত্রাকনাশক স্প্রে করলেও ভুট্টাগাছ রোগমুক্ত হচ্ছেনা। অতিবৃষ্টি আর বাতাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ভুট্টা ক্ষেতের।
এছাড়াও চরে চাষ করা মরিচ, পেঁয়াজ, মিষ্টি কুমড়া, করলাসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। চরাঞ্চলের কৃষকরা নির্ভরশীল ফসলের উপর। প্রতি বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে তিস্তার নদী হয়ে যায় ধু ধু বালুচর। প্রখর রোদে বালুময় তিস্তা হেঁটে পাড় হন চরাঞ্চলবাসী। প্রায় ৩৫ বছর পর এই প্রথম সেই চিত্র পাল্টে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
কৃষকরা জানান, অসময়ে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ায় ও উজানে ভারি বৃষ্টিপাতে তিস্তার পানি হু হু করে বাড়ছে। হঠাৎ করেই ঘন ঘন বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। এখন পরিবারের ভরণ-পোষণ চালানোর চিন্তায় চরের কৃষকরা দিশেহারা। প্রতি বছর বন্যা হয় সময় মতো। বন্যার আগেই কৃষকরা ধান, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ফসল ঘরে তুলতো।
কিসামত চড়ের ভুট্টা চাষি খোকা মিয়া জানান, চলতি বছর ২০ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি। আবাদের লক্ষণও ছিল মোটামুটি ভালো। এখন বৈরী আবহাওয়ায় পানি জমে ভুট্টার গাছ পঁচে যাচ্ছে, পোকা ধরেছে। ভুট্টার পচন রোগ সব অর্জন ম্লান করে দিতে পারে। চর খড়িবাড়ির কৃষক ইব্রাহীম জানান, গত বর্ষায় পানিতে ডুবে সব ফসল নষ্ট হয়েছিল। এখন ছত্রাকজনিত রোগে ভুট্টার গাছ আক্রান্ত হওয়ায় মরে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, খারাপ আবহাওয়ায় ভুট্টায় ছত্রাকজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। রোগটি প্রতিরোধ ও বিস্তাররোধে কৃষকদের সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।








