রুশ ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন স্থগিত--
বিশ্বের দুশ’র বেশি দেশের ১১ হাজার আর্থিক প্রতিষ্ঠান সুইফটের সঙ্গে যুক্ত
বিশ্বের ২০০টির বেশি দেশের ১১ হাজার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সুইফটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। রাশিয়ার কয়েকটি ব্যাংকের ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রাশিয়ার ৭ ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লেনদেন স্থগিতের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
সুইফট কর্তৃপক্ষ বুধবার তার সদস্য ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো এক বার্তায় নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন স্থগিতের নির্দেশনা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মুখে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে অর্থ লেনদেন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে রাশিয়া।
রাশিয়ার যে ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশের সোনালি ব্যাংক এই প্রকল্পের অর্থ লেনদেন করে সেটি নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে। ফলে সেই রুশ ব্যাংকটি তাদের সঙ্গে আপাতত লেনদেন থেকে বিরত থাকতে বলেছে বাংলাদেশকে। রাশিয়ার ব্যাংকটির নাম ব্যাংক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ফরেন ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স (ভিইবি)। তারা কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুইফট ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি বার্তা পাঠায়।
অন্যদিকে সুইফট তার নেটওয়ার্কে থাকা বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোকে গত বুধবার এক চিঠিতে জানিয়েছে, ভিইবি ছাড়াও তাদের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে যাচ্ছে রাশিয়ার বাংক আৎক্রিতিয়ে, নোভিকোবাংক, প্রোমসভিয়াজবাংক, বাংক রাশিয়া, সোভকমবাংক ও ভেতেবে বাংক। রাশিয়ার ব্যাংকগুলোর ওপর সুইফটের নিষেধাজ্ঞার ফলে শুধু রূপপুর প্রকল্প নয়, রাশিয়ার সঙ্গে অন্যান্য বাণিজ্যিক লেনদেনে বিপত্তি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বৃহস্পতিবার কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, ব্যাংকারসহ অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ায় এখনই অর্থ পাঠাতে হবে, এমন কোনো লেনদেন না করার বিষয়ে সভায় মতামত এসেছে। কারণ, সুইফটে অর্থ আটকে যেতে পারে।
রাশিয়ার পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের নেতৃত্বে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে প্রায় ২২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। আর রাশিয়া থেকে ঋণসহায়তা হিসেবে আসছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। কেন্দ্রটি দিয়ে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়ামও আসবে সেখান থেকেই। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজটিতেও যুক্ত থাকবে রাশিয়া। সব মিলিয়ে নির্মাণ-পরবর্তী দীর্ঘ সময়েও রাশিয়ার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা থাকবে।
তবে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে রাশিয়ার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রোসাটম।







