নিউইয়র্ক লকডাউন করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি নিউইয়র্কের আশপাশের রাজ্যগুলো লকডাউনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেটা বাতিল করেন ট্রাম্প। লকডাউন করা হলে দেশে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে- রাজ্যগুলোর গভর্নর ও স্থানীয় রাজনীতিবীদদের এমন হুঁশিয়ারির পরই ট্রাম্প সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন। বিবিসি জানায়।
পরে এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লকডাউনের পরিবর্তে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও কানেকটিকাট থেকে দেশের অন্যত্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, ফ্লোরিডাসহ আরও কিছু রাজ্য নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তিনি। কারণ নিউইয়র্ক থেকে বহু মানুষ ওই রাজ্যগুলোতে যাচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে ওই রাজ্যগুলোতে ব্যাপক হারে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিউইয়র্কের বাসিন্দারা ফ্লোরিডার বাসিন্দাদের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছেন।
এমন অবস্থায় নিউইয়র্কসহ আশপাশের রাজ্যগুলোতে লকডাউন জরুরি বলে মনে করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তের তুমুল সমালোচনা করেন নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ও নিউজার্সির গভর্নর নেড ল্যামন্ট। তারা দারনা এ রাজ্যগুলোকে লকডাউন করা হলে জনগণ আরও ভীত হয়ে পড়বেন। ফলে আর্থিক বাজারে ফের ধস নামবে।
ট্রাম্পের লকডাউনের সিদ্ধান্তকে ‘আমেরিকা বিরোধী’ বলেও মন্তব্য করেন এক গভর্নর। সেই গভর্নর বলেন, নিউইয়র্কে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না, অপ্রয়োজনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, মানুষকে জমায়েত হতে দেওয়া হচ্ছে না। তারপরও যদি লকডাউন করা হয়, তাহলে তীব্র ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হবে।
ওয়ালর্ন্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ২৩ হাজার ৭৫০ জন মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২২৭ জনের। এর মধ্যে নিউইয়র্কে মারা গেছেন ৮৮৩ জন ও আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৫৫ জন।
আনন্দবাজার/শহক








