চট্টগ্রাম থেকে ইউরোপের মধ্যে কনটেইনার জাহাজ চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে ৷ দৈনিক আনন্দবাজার প্রধান শিরোনামে এই সংবাদটি জানিয়েছে, আগামীকাল ৭ ফেব্রুয়ারি এই কনটেইনার জাহাজটি ইতালির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। এই জাহাজ সরাসরি চলাচলের ফলে সময় বাঁচবে কমপক্ষে ১০ দিন। আগে সময় লাগতো ২৪ থেকে ২৬ দিন। এখন লাগবে মাত্র ১৫ দিন। কোনোরূপ বিরতি ছাড়াই মালামাল পৌঁছে যাবে ইউরোপে। শুধু সময়ই নয়, এতে খরচও কমে আসবে। যা আগের খরচের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কমবে। এরফলে বর্তমানের এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান হবে সুদৃঢ়। নতুন ক্রেতা সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
আপাতত চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইতালিতে মাসে দুটি জাহাজ সরাসরি চলাচল করবে। গ্রাহক সাড়া পেলে জাহাজের সংখ্যা আরও বাড়বে। এটি শুধু সমুদ্র বাণিজ্যেই নয়, বাংলাদেশের সার্বিক রপ্তানি বাণিজ্যেও মাইলফলক। সরাসরি জাহাজ চলাচলের ফলে বিভিন্ন বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্ট জটের ভীতিও রপ্তানিকারকদের মধ্য থেকে কমবে। সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকগণ এটিকে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ অর্জন হিসেবে দেখছেন। রপ্তানিক্ষেত্রে এই নতুন মাত্রা যোগকে ব্যবসায়ীমহল সাধুবাদ জানিয়েছেন। এরফলে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। রপ্তানিখাতের জন্য এটি অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে রপ্তানি পোশাক শিল্পের নতুন বাজার সৃষ্টিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। পোশাক রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাহাজজট বা জাহাজ দুষ্প্রাপ্যতার কারণে বিভিন্ন সময়ে যে লোকসান গুনতে হত তা থেকে নিষ্কৃতি জুটবে।
এই উদ্যোগে যেমন আশার বাণী শোনা যায় তেমনি হতাশাও কাজ করছে অনেকের মাঝে। বিশেষ করে বন্দরের নানা অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়গুলো উঠে আসে। এই শুভ উদ্যোগটি যেন আবার সেই ফাঁদে না পড়ে সে ব্যাপারেও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সরকারের আমলে এধরণের শুভ এবং সুদূরপ্রসারী চিন্তাচেতনার উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন যেভাবে হচ্ছে তা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্যোগগুলো যেন স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তে ভেস্তে না যায়।
এ প্রসঙ্গে স্বীকার করতেই হয় যে, দেশের সার্বিক উন্নয়নে এই সরকার ব্যাপক মেগাপ্রকল্প হাতে নিয়েছে। যেসব প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সম্ভব হলে বা বাধাগ্রস্ত না হলে দেশ উন্নয়নের চরম শিখরে উন্নীত হবে। যা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এই সময়ের অপেক্ষার মাঝেই দুষ্ট চক্র দেশ এবং বিদেশে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করতে মরিয়া। নানাভাবে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম যাতে ব্যাহত হয় সেই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশবাসীকে এই দেশবিরোধী গোষ্ঠী থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সচেতন থাকতে হবে। এই সরকার যখন পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল,এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, বঙ্গবন্ধু ট্যানেলসহ চট্টগ্রাম থেকে ইউরোপ সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিচ্ছে তখন স্বার্থান্বেষী ঐ মহলটি দেশবিরোধী, দেশের উন্নয়ন ব্যাহতের চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের নেতিবাচক কর্মতৎপরতার কারণে দেশ এবং দেশের মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঐ গোষ্ঠী পাকিস্তান যেভাবে আজ পিছিয়ে পড়েছে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশকেও পাকিস্তানের মতো দুর্বল, মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আর তাতে সফল না হয়ে বিভিন্ন দেশের কাছে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ধরে ক্ষতি করার চেষ্টায় লিপ্ত। ফলে দেশের মানুষকে এসব ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সচেষ্ট থাকা জরুরি।








