পাহাড়ি ঐতিহ্য
খাগড়াছড়ি সদরের ইটছড়ি সাধাম্মা অরণ্য কুটিরের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ প্রয়াত ভদন্ত উ. সারানন্দ থেরোর জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে খাগড়াছড়ি সদরের বেতছড়ি মার্মাপাড়ার মাঠ প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে শেষকৃত্যানুষ্ঠান আয়োজন করেন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন কমিটি।
দুই দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের শেষ দিনে ভোর থেকে খাগড়াছড়ি সকল উপজেলা ও রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলার ভক্তরা জড়ো হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় অষ্টপরিস্কারদান, মঙ্গলচরণ, স্মৃতিচারণ, ঐতিহ্যবাসী সইং নৃত্য, আতশবাজির ও ধুম্রবাজি সহকারে শবদেহক্রিয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ হয়। এ দিকে সকাল ১১টায় বাদযন্ত্রের তালে তালে ১৭ জন সদস্য এক হয়ে সইং নৃত্য পরিবেশনা করেন শিল্পীরা। আর সইং নৃত্য উপভোগ করতে কয়েক হাজার ভক্তরা এক হয়।

আয়োজকরা জানান, অংম্রে রেদনা বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ ধুতাঙ্গ সাধক উ. সরানন্দ থেরো (৮৭) বয়সে ১৯ বর্ষা আমাদের ছেড়ে গত ১১ মার্চ চলে যান। জেলার সকল উপজেলা ও রাঙামাটি থেকে ভক্তরা এসেছে। ঐহিত্যবাহী সইং নৃত্য ছাড়া অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না। সইং নৃত্য দলের প্রধান মংজসিং মারমা বলেন, বেদনাদায়ক অনুষ্ঠান হলেও মানুষকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করি সইং নৃত্য দিয়ে। এ নৃত্য দেখতে দুর-দুরান্ত থেকে দেখতে আসে। এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি বিহার অধ্যক্ষর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে সইং নৃত্য পরিবেশনা করেছি। অনুরোধে রাঙামাটিতে গিয়ে নৃত্য পরিবেশনা করতে হয়।
অনুষ্ঠানে আগ্রত শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারের উপধ্যক্ষ অগ্রসার ভিক্ষু জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য মাধ্যমে মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করা হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষ মৃত্যু হলে এভাবে অনুষ্ঠান করা হয় না। সংসার জীবন ত্যাগ করে সাধনায় চলে আসেন। দুঃখ থেকে মুক্তি লাভের সাধনা করেন। বুদ্ধ বার্ণী প্রচার করেন ও সকল প্রাণীর মুক্তির বার্ণী প্রচার করেন ভিক্ষুরা।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন কমিটি আহবায়ক ও সাবেক কমলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চাপ্রু মারমা বলেন, বৌদ্ধ ধর্মের ভিক্ষুদের এভাবে দাহক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হয়। বিশেষ ধুম্রবাজির মাধ্যমে আগুন দিয়ে শেষকৃত্যানুষ্ঠান করতে হয়।
তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তারই একটা অংশ হিসেবে এ সইং নৃত্য পরিবেশনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে মাইসছড়ি বুদ্ধ শিশুঘরের বিহার অধ্যক্ষ সুমনা মহাথেরো, গুইমারা দেওয়ানপাড়া আশ্রমের বিহার অধ্যক্ষ সংঘভিক্ষু, রাঙামাটি বনবিহারের বনভান্তের ভিক্ষু সুরজগৎ, নানিয়ারচর দক্ষশীলা বনবিহারে অধ্যক্ষ মহামিত্র ভিক্ষু, আলুটিলা বিহারের বিহার অধ্যক্ষসহ খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন বিহার থেকে দেড়জন জন্য ভিক্ষুরা অংশগ্রহন করেন।
অনুষ্ঠানের পাশে বসেছে মেলা। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভক্তরা মেলায় ঘুরে ঘুরে ঘরের প্রয়োজনীয়, সাজঘোজের সামগ্রী ও শিশুরা খেলনা কিনে।
উল্লেখ্য, ভদন্ত উ. সরানন্দ মহাথেরো ( ৮৭ ) ওয়া-১৯ বর্ষাবাস করেছেন। তিনি গত ১১ মার্চ পরলোকগমণ করেন। এই দিকে সন্ধ্যায় প্রদীপ পূজা ও ফানুস উত্তোলন করা হবে জানান আয়োজকরা।







