প্রতি হালি লেবু বাগানে ক্রয় করা হয় ৮ থেকে ১২ টাকা দরে। আর এ লেবুই খুচরা বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে ৩৫ থেকে ৫০ টাকায়
দুই টাকার লেবু হয়ে যাচ্ছে ১০ টাকায়। বাগান থেকে পাইকারি বাজার হয়ে খুচরা বাজার পর্যন্ত আসতে আকার অনুযায়ী প্রতি লেবুতে ৬ থেকে ১০ টাকা বেড়ে যাচ্ছে। শ্রীমঙ্গলে ভোক্তার অভিযানে বেরিয়ে আসে এমন ভয়ষ্কর চিত্র। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চায়ের পরই লেবুর অবস্থান। অথচ শ্রীমঙ্গল ও আশেপাশে প্রায় ২ হাজার ছোট বড় বাগানে লেবু উৎপাদিত হয়। যা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়।
গতকাল মৌলভীবাজার ভোক্তা অধিদফতর অভিযান পরিচালনা করে দেখতে পায় প্রতি হালি লেবু বাগান থেকে ৮ থেকে ১২ টাকায় ক্রয় করে খুচরা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ৩৫ থেকে ৫০ টাকায়।
ভোক্তা অধিদফতরের অভিযান থেকে জানা যায়, কয়েকটি চক্র এখানে লেবু কেনা বেচায় কাজ করছে। মূলত তারাই এ দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। সিন্ডিকেট করে বাগান থেকে লেবু সংগ্রহ করে কিছু ভাসমান ও পাইকারি ব্যবসায়ী ন্যায্যমূল্যে লেবু কিনে ভাউচার ছাড়া অধিক মূল্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। সেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা আবার ভাউচার ছাড়া অধিক মূল্যে যার যার এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। খুচরা ব্যবসায়ীরা সাধারণ জনগণের কাছ থেকে লেবুর আকার অনুযায়ী ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।
ভোক্তা অধিকার অধিদফতর জানায়, অভিযানের পর নেতৃস্থানীয় লেবু ব্যবসায়ীরা কথা দিয়েছেন আইন মেনে ব্যবসা করবেন। তারা আরো জানান, অভিযানে অতিরিক্ত দামে লেবু বিক্রয় করা, ক্রয় ও বিক্রয় ভাউচার সংগ্রহ না করা, দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ কীটনাশক বিক্রয় করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে শ্রীমঙ্গলের নতুনবাজারে অবস্থিত মেসার্স আফরোজা বাণিজ্যনালয়কে ১০ হাজার, পান্না লাল কৃষি বিতানকে ৪ হাজার, মাসুম খান ফিড স্টোরকে ২ হাজার ও সুমা ফার্মেসিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিনের নেতৃত্বে র্যাব-৯ ফোর্সের সহযোগিতায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার নতুনবাজার, সোনার বাংলা রোডসহ বিভিন্ন জায়গায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী, লেবুর ও তরমুজের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান, ফার্মেসিসহ মনিটরিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।








