- বেড়ে যাওয়ার পরদিনই পতন
- কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম
- কেনার চেয়ে বিক্রির চাপ বেশি
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সব ধরনের সূচক গতকাল বুধবার পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া দুই স্টকের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। তবে এদিন দুই স্টকের লেনদেন পরিমান বেড়েছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারের অস্থিরতা দূরীকরণে সম্পতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) কারসাজিকারীদের নজরদারিতে আনাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেয় অর্থমন্ত্রণালয়। খবরটি জড়িয়ে গেলে গত মঙ্গলবার সূচক সামান্য বেড়েছে। কিন্তু একদিন পরেই আবারো পতন।
সব ধরনের সূচক পতন জানিয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা গতকাল বুধবার বলছেন, দুই স্টকের সব ধরনের সূচকের পতন ঘটে গতকাল। শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রয়ের চাপ বেশি ছিল। ফলে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার পতন হয়েছে। এদিন সূচক পতন হলেও দুই স্টকে লেনদেন বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গতকাল ব্যাংক, ইঞ্জিনিয়ারিং, ওযুধ রসায়ন, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানি শক্তি, আইটি এবং সিমেন্ট খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার দর পতন সবচেয়ে বেশি ছিল। এদের মধ্যে ব্যাংক খাতের ৩২টির মধ্যে ২২টি, ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৪২টির মধ্যে ২৩টি, ওযুধ রসায়ন খাতের ৩২টির মধ্যে ২৩টি, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ২০টির মধ্যে ১১টি, জ্বালানি শক্তি খাতের ২৩টির মধ্যে ১৪টি, আইটি খাতের ১১টির মধ্যে ৮টি এবং সিমেন্ট খাতের ৭টির মধ্যে ৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর পতন ছিল। একই মন্দা অবস্থা অপর পুঁজিবাজার সিএসইতেও। এদিন দুই স্টকের বেশিরভাগ খাতের কোম্পানির শেয়ার দর কমাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন তারা।
বিনিয়োগকারী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএসইতে বীমা এবং বিবিধ খাতের প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর উত্থান বেশি ছিল। এদের মধ্যে বীমা খাতের ৫২টির মধ্যে ৪৫টি এবং বিবিধ খাতের ১৪টির মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর উত্থান ছিল। এছাড়া ডিএসইর অন্য খাতগুলো উত্থান-পতন প্রায় সমান ছিল।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে বুধবার লেনদেন হয়েছে ৭৬৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৬৫২ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে বেড়েছে ১৪২টির, কমেছে ১৮৬টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৪৯টির দর। টাকার অংকে এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো, সোনালি পেপার, জিএসপি ফাইন্যান্স, ওয়ান ব্যাংক, ফরচুন সুজ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, জেনেক্স ইনফোসিস, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, আইএফআইসি ব্যাংক।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২ দশমিক ৮১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৫৪ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ২ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট ও ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ২ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৫৩৬ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে ও ১ হাজার ৪৩৩ দশমিক ৯০ পয়েন্টে।
অপর পুঁজিবাজার সিএসইতে বুধবার লেনদেন হয়েছে ১১০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯৩টির কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১২১টির, কমেছে ১২৭টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৪৫টির কোম্পানির। টাকার অংকে এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো ফার্মা, লিন্ডে বিডি, ওয়ান ব্যাংক, রবি, আইএফআইসি ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক ।
এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১২ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬৬৭ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ১ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৩৪ দশমিক ৪২ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৮ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট ও সিএসআই সূচক ২ দশমিক ৬২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৭৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৮৪৬ দশমিক ৭০ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৮১৮ দশমিক ২২ পয়েন্টে ও ১ হাজার ২১৬ দশমিক ২৮ পয়েন্টে।
আনন্দবাজার/শহক








