শীতকালীন সবজি শিম। শীতে বাড়ে এ সবজির কদর। বিষয়টি মাথায় রেখে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় শিম চাষে ঝুঁকছেন ময়মনসিংহের নান্দাইলের চাষিরা। চাষ করছেন বিভিন্ন জাতের শিম। এরমধ্যে ‘কাজলী শিম’ চাষ করে অধিকভাবে সাফল্য পেয়েছেন উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের ধরগাঁও চকপাড়া গ্রামের কৃষক আলাল উদ্দিন। তিনি দশ কাটা (১০০ শতক) জমিতে চাষ করছেন কাজলী শিম। এ জাতের শিম সব সময় বাজারে একটু বেশি দামে বিক্রি হয়। তুলনামূলক ভাবে চলতি বছর এ জাতের শিমের ফলন কম হলেও বাজার দর বেশি পাওয়ায় অনেক খুশি কৃষক আলাল উদ্দিন।
তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর শিমের দর বেশি। কাজলী শিমের ফলন কম। তবে বাজার দর ভালো পাওয়া যাবে। প্রতিকেজি শিম পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিও বিক্রি করেছেন পাইকারি দরে। দশ কাটা জমির মধ্যে মাঁচা তৈরিসহ খরচ হয়েছে বিশ হাজার টাকার মতো। চলতি বছর প্রায় দুই লাখ টাকা শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
কৃষক আলাল উদ্দিন আরও বলেন, দশ কাটা জমিতে ধান চাষের আয়ের সমান দুই কাটা জমি কৃষি সবজি চাষে। তাই সবজি চাষের উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। গত ১৫ বছর যাবত তিনি সবজি চাষ করছেন। এতে প্রায় কোটি টাকার মতো মুনাফা অর্জন করেছেন বলে জানান তিনি।
জানা যায়, নান্দইল উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার মধ্যে আচারগাঁও, চরবেতাগৈর ও বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের প্রায় অধিকাংশ গ্রামেই শিমের চাষ হয়েছে। এছাড়াও সিংরইল, রাজগাতি, গাংগাইল, শেরপুর, খারুয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে শিমের চাষ হয়েছে।
চলতি বছর নান্দাইলে ৪১৫ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। এখানকার শিম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাহিদা পূরণ করছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় শিমের ভালো ফলন এবং উচ্চমূল্য বাজার দর পাওয়ায় শিম চাষে বেশ খুশি কৃষকরা। খরচের চেয়ে আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হওয়ায় শিম চাষের উপর আগ্রহ বাড়ছে এ অঞ্চলের কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, এ অঞ্চলের জমি সবজি চাষের জন্য খুবই
উপযোগী। লাভজনক হওয়ায় এ এলাকার কৃষকরা শীত মৌসুমে ব্যাপকভাবে শিম চাষ করে থাকেন। শিম চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এ এলাকার কৃষক।








