গাজীপুরে আমন ধান বুননের সময় প্রায় পেরিয়ে গেলেও বর্ষার ভরা মৌসুমে আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। বৃষ্টির অভাবে মৌসুমী সবজি ক্ষেতে সেচ দেওয়া নিয়েও চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়ছেন। আষাঢ় মাসের শুরুর দিকে আমন বুননের সময় থাকলেও এখন শ্রাবন মাসের শেষ সপ্তাহ চলছে। এ সময়ে ভরা বর্ষার মৌসুম থাকলেও অন্য বছরের মতো স্বাভাবিক বৃষ্টির দেখা মিলছে না। কখনো কখনো দু’এক পশলা বৃষ্টির দেখা মিললেও কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না। এতে জেলার প্রায় এক লাখ ৩৮হাজার ৩৯৫ জন কৃষক আমন বুনন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, গাজীপুর জেলায় এ বছর ৪২ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক লাখ ২৬ হাজার ১১৫ মেট্রিকটন চাউল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যা গত বছর ছিল এক লাখ ২৫ হাজার ৮৭৪ মেট্রিক টন। সে বছর আবাদ হয়েছিল ৪২ হাজার ৬১০ হেক্টর জমি।
শ্রীপুর কাপাসিয়া, কালিগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকেরা আমন খেতে সময়মতো হাল দিতে পারছেন না। একইসাথে প্রচন্ড খরায় মাঠ পুড়ছে তাদের ফসলী জমি। এদিকে, প্রখর রৌদ্রে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না কেউ কেউ। বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের সেচ দিতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।
শ্রীপুরের কাওরাইদের বলদিঘাট গ্রামের কৃষক আবু আলী জানান, আমনের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় আষাঢ় মাস থেকে শ্রাবণের শেষ পর্যন্ত। এবার মৌসুমের শুরু থেকেই বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে ক্ষেতে সেচ দিতে কৃষকের বাড়তি খরচ হবে। এছাড়াও ক্ষেতে আগাছা, রোগ ও পোকার আক্রমণ বেড়ে গেলে ফলন কমার বিষয়টিও কৃষকের দুশ্চিন্তার কারন হতে পারে।
পাশের নালা থেকে পানি উঠিয়ে নিজের জমিতে দি”িছলেন জেলার শ্রীপুর উপজেলার লোহাগাছ গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, অন্য বছর এই সময়ে ধান গাছ পরিপূর্ণ হলেও এবার বৃষ্টির কারনে এখনো বুনন করতে পারিনি। তাই, আশপাশের বাড়ি থেকে নালায় জমানো পানি দিয়ে জমি তৈরি করছি। কাপাসিয়া উপজেলার বরুন গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, বৃষ্টির অভাবে ক্ষরায় মাঠ পুড়ে চৌচির হয়ে গেছে। জমিতে হাল দেওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিক ভাবে বৃষ্টি হলে এতো দিন আমন বুননের জমি তৈরি হয়ে যেতো। বৃষ্টি না হওয়াতে সময় মতো ধানের চাড়া রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কালিগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর গ্রামের আইননুদ্দিন বলেন, পানির অভাবে হাল চাষ তো দূরের কথা জমিতে ফাটল ধরেছে। এখন গভীর নলকূপের পানি দিয়ে জমি তৈরি করে আমন রোপণ করা ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না।
গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, অনাবৃষ্টি-অতিবৃষ্টি কোনোটাই কৃষিতে কাম্য নয়। এতে কৃষকের ক্ষেতে আগাছা, রোগ ও পোকার আক্রমণ বেড়ে গিয়ে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যহত হওয়ার সাথে সাথে চাষীরা ক্ষতির মুখে পড়েন।








