বিভিন্ন প্রজাতির ফলের চাষ করে সম্ভাবনাময় জীবন গড়ে তুলেছেন আশরাফুল। একসময় বেকারত্ব থেকে মুক্তিপেতে বিদেশ পাড়ি জমানোর ইচ্ছা ছিল তার। তবে নানা প্রতিকূলতায় সেই স্বপ্ন ছেড়ে দিয়ে নিজ দেশেই কিভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায় সেই চেষ্টায় আশরাফুল শুরু করেন বিভিন্ন ফলের চাষ।
তার বাড়ি উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীঘর বগাহানী গ্রামে। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা আশরাফুল বিভিন্ন প্রজাতির ফলের চাষে উৎসাহ পায় অনলাইনের মাধ্যমে। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে গত ৬ মাস আগে ৬ শতাংশ জমিতে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে ড্রাগন গাছ লাগিয়ে ৩৭৫টি বাঁশের খুটি ও পিলার তৈরি করে। সেই বাঁশের খুঁটি ও পিলারে এখন ড্রাগনের গাছগুলিতে ফলের অপেক্ষায় আশরাফুল। ড্রাগন ফল বিক্রির বার্ষিক আয় ৬০ হাজার টাকা ও পেঁপে চাষে ৪ হাজার টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তিনি। যা দিনে দিনে আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা তার। ড্রাগন ছাড়াও তার বাগানে রয়েছে বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছ।
আশরাফুল বলেন, চাকুরি বা প্রবাসে যাওয়ার আশায় অনেক সময় নষ্ট করি। পরে চিন্তা করে দেখলাম ইচ্ছে থাকলে নিজ দেশই অনেক কিছু করা যায়। অনলাইনে ড্রাগন চাষসহ অন্যান্য ফলের লাভবান ব্যবসা দেখে উৎসাহ পাই। সেই চিন্তা থেকে বিদেশ যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে এ কৃষি কাজকেই পেশা হিসেবে নিয়েছি। গ্রামের মানুষের কৌতূহল, কি হবে এসব করে। মানুষের কৌতূহলকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং অন্যরাও যাতে এ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয় সেই পরিকল্পনায় এগিয়ে চলছি। নিজের সাধ্য দিয়ে এ পরিকল্পনা শুরু করেছি। তবে সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পেলে আরো এগিয়ে যেতে পারবো।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ড্রাগন ও অন্যান্য ফলচাষে দ্রুত স্বাবলম্বী হওয়া যায়। কৃষি বিভাগ থেকে এর উপর কোনো প্রণোদনা নেই। তবে কেউ সহযোগিতা চাইলে কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে।








