কুড়িগ্রামের উলিপুরে লঙ্কার দাম কমতে শুরু করলেও আদায় ও জিরায় নেই স্বস্তি। আদা ও জিরার বাজার ঊর্ধ্বগামীতে স্বস্তিতে নেই নিম্ন আয়ের মানুষ। এছাড়াও আলু, রসুন সহ অন্যান্য সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্থানীয় ভাবে যে সব সবজি বাজারে আসে তাতে চাহিদা পুরন না হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে চরাদামে নিয়ে এসে তা আবার চরাদামে বিক্রি করতে হয় বলে ব্যাবসায়ীরা দাবী করেন।
সরেজমিন উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র উলিপুর পৌরসভাধীন সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পাইকেরিতে আদা, রসুন সহ অন্যান্য সবজি চরা দামে বিক্রি হচ্ছ। গ্রামীণ বাজারের খুচরা বিক্রতারা উপায় না পেয়ে চাহিদার থেকে কম সবজি ক্রয় করছেন। তারা জানান চরা দামে সবজি ক্রয় করে তা আবার চরা দামে বিক্রয় করতে হবে। তাতে ক্রয় করা সকল সবজি বিক্রি করতে পারবেননা। অনেক ক্ষতিতে পড়ে যাবেন। পাইকেরি বিক্রেতারা বলেন সবজির মোকামে চাহিদার তুলনায় কম সবজি পাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে খুচরা বিক্রেতারা ও সাধারণ মানুষ জানান ঈদুল আজহাকে কাজে লাগিয়ে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
উক্ত সবজি বাজারে পাইকেরিতে ও খুচরায় কেজি প্রতি সবজি বিক্রি হচ্ছে আদা ৪'শ ৪০ টাকা খুচরায় ৪'শ ৬০ টাকা, মরিচ ১'শ ৮০ টাকা খুচরায় ২'শ টাকা, আলু (স্টিক) ৩৩ টাকা খুচরায় ৩৮ টাকা, আলু (দেশি) ৪৫ টাকা খুচরায় ৫০ টাকা, পিয়াজ (এলচি) ৪০ টাকা খুচরায় ৪৫ টাকা, পিয়াজ (দেশি) ৭০ টাকা খুচরায় ৭৫ টাকা, রশুন ১'শ ২৪ টাকা খুচরায় ১'শ ৩০ টাকা, শুকনো মরিচ ৪'শ ৮০ টাকা খুচরায় ৫'শ টাকা, বেগুন ২০ টাকা খুচরায় ২৫ টাকা, করলা ৫০ টাকা খুচরায় ৫৫ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা খুচরায় ৫০ টাকা, ঢেড়স ২০ টাকা খুচরায় ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা খুচরায় ৪০ টাকা, পটল ৩০ টাকা খুচরায় ৩৫ টাকা।

উপজেলার বজরা ইউনিয়ন থেকে পাইকেরিতে সবজি ক্রয় করতে আসা সাদ্দাম মিয়া (খুচরা বিক্রেতা) বলেন, আদা, মরিচ, রসুন সহ প্রায় সকল সবজির বাজার দর বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশ কয়েকদিন থেকে সবজিতে দাম বেশি। তিনি আরও বলেন আমরা গ্রামীণ বাজার গুলোতে খুচরায় সবজি বিক্রি করতে হিমশিম খাই। এজন্য অল্প করে সবজি কিনতে হয়। দাম বৃদ্ধি পেলে ক্রেতারা বেশি ক্রয় করতে চাননা বলে জানান তিনি। বিশেষ করে আজ আদা ও মরিচ ক্রয় না করেই যাচ্ছি। বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে সমস্যা হয়।
এছাড়া উপজেলার শিববারি থেকে খুচরায় সবজি ক্রয় করতে আসা হালিমা বেগম (৬৫) জানান, হামরা গরিব মানুষ যে ভাবে আদা, রশুন ও মরিচের দাম সহ অন্যান্য সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কিভাবে সবজি কিনে খামো। মনের আক্ষেপে সবজির দাম কষাকষি করে ছেরে চলে যান। তিনি আরও বলেন আমি টাকা আয় করতে পারিনা কাজও করতে পারিনা আমার মত নিম্ন আয়ের মানুষ গুলাক না খেয়ে থাকতে হবে।
এদিকে মসলার মধ্যে জিরার দাম যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা হাফ ছেড়ে উঠছে। ১ হাজার টাকা জিরার কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। পৌর বাজারের মসলা বিক্রেতা মমিনুল ইসলাম বলেন, জিরার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মসলার বিক্রি অনেক কমে গেছে। এছাড়াও কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ছোট এলাচ ১৬'শ টাকা ও বড় এলাচ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। তিনি আরও জানান, এবারে ঈদুল আজহায় তেমন বেশি ব্যাবসা করতে পারিনি। গত বারের চেয়ে এবার ঈদে তিন ভাগের এক ভাগ মসলা বিক্রি করেছি। কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেতাদের হাতে টাকা নেই।
উপজেলার মাঝবিল থেকে মসলা কিনতে আসা লাকি বেগম (৮০) বলেন, মাত্র ৪০ টাকার মসলা কিনলাম। আমি গরিব মানুষ টাকা নেই এদিকে যেভাবে মসলার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে মসলা ছাড়া তরকারি খাওয়া ছাড়া হামার গুলার উপায় নেই।
পৌরসভাধীন সবজির আড়দের মালিক লাল মিয়াকে আদা, রসুন ও মরিচের দাম সহ অন্যান্য সবজির দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, মোকামে আদা, রসুন ও মরিচ সহ অন্যান্য সবজির সংকট দেখা দিলে দাম বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। স্থানীয় ভাবে যে সব সবজি বাজারে আসে তাতে চাহিদা পুরন করা সম্ভব হয় না। তিনি আরও বলেন, বেশি দামে ক্রয় করে বেশি দামেই বিক্রয় করতে হচ্ছে।
আনন্দবাজার/শহক







