বিশ্ববাণিজ্যযুদ্ধ---
- ঢাকাকে পাশে চায় মস্কো
পশ্চিমাদের আরোপিত বহুমুখী নিষেধাজ্ঞার জালে পড়ে রাশিয়া বিশ্বঅর্থনীতি থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাশিয়াকে কোণঠাসা করার জন্য পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। ঠিক এমন বৈরী পরিস্থিতিতে রাশিয়াও ভিন্নভাবে বৈরী পশ্চিমা বিশ্বকে মোকাবিলার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী ১৫-১৮ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে সম্মেলনের আয়োজন করছে রাশিয়া। যে সম্মেলনের মাধ্যমে রাশিয়াকে পশ্চিমাকে বড় বার্তা দিতে চায়।
অবশ্য সেই সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপদেষ্টা অ্যান্টন কোবায়েকভ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লেখা চিঠিতে এ অনুরোধ জানিয়েছেন। মস্কো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের রাশিয়া বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সমর্থন চায়। এজন্যই ঢাকাস্থ রুশ দূতাবাস থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তাদের অন্য মিত্র দেশগুলোর আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) পাল্টা ব্যবস্থা নিতে রাশিয়া সমর্থন চায়।
তাছাড়া বৈশ্বিক হিরা শিল্পের পর্যবেক্ষক সংস্থা- কিম্বার্লি প্রসেস থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়ার পশ্চিমা উদোগের বিপক্ষেও অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া। সেখানেও বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছে দেশটি। আর ঢাকার অংশগ্রহণ যেন অত্যন্ত ফলদায়ক হয় সেজন্য সব রকম চেষ্টা করবে মস্কো। সেই সম্মেলনে দ্বিপাক্ষিক নেটওয়ার্কিং, মতামত বিনিময়, নতুন চুক্তি আলোচনা ও নতুন বিনিয়োগ চুক্তি সইয়ের অবারিত সুযোগ থাকবে।
এর আগে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান দক্ষিণ কোরিয়াসহ ১৩টি দেশ রাশিয়া ও বেলারুশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অথচ বাণিজ্য ক্ষেত্রে কোনো দেশের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ডব্লিউটিওর ‘মোস্ট ফেভার্ড ন্যাশন’ নীতির পরিপন্থী। তারপরও সেই নিষেধাজ্ঞার সমর্থনে পশ্চিমা বিশ্ব ও তাদের সমর্থক দেশগুলোর এক যৌথ বিবৃতি গত ১৫ মার্চ জারি করেছে বিশ্ব বাণিজ্য সহজীকরণে গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।
রাশিয়ার চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার মধ্যে রাশিয়ান ফেডারেশনের অধিকার ও বৈধ স্বার্থ সীমিত করা অগ্রহণযোগ্য, তাই রাশিয়ান পক্ষ বাংলাদেশিদের প্রতি সমর্থনের আহ্বান জানাচ্ছে। এরমধ্যে ডব্লিউটিও-তে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখাকেও সমর্থনের অনুরোধ রয়েছে।’
রাশিয়া বলেছে, ডব্লিউটিও থেকে রাশিয়াকে বহিষ্কার করা অথবা সদস্যপদ স্থগিত রাখার প্রস্তাবও সংস্থাটির নিয়মবিরুদ্ধ। পৃথক এক চিঠিতে রাশিয়ান দূতাবাস বলেছে, ইইউ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার প্রতিনিধিরা কিম্বারলি প্রসেসে রাশিয়ান ফেডারেশনের অংশগ্রহণের স্তরকে কমিয়ে আনতে চাইছে। রাশিয়ান হীরার কেপি কমপ্ল্যায়েন্স নিশ্চিত কিনা তা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো প্রশ্ন তুললে তখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা চেয়েছে মস্কো।








