ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে সাফল্যের পাশাপাশি বিদেশে ভ্রমণকারীর দিক থেকেও এগিয়ে যাচ্ছে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল। মাস্টারকার্ডের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, বিশ্বে ভ্রমণকারীর দিক থেকে শীর্ষ দশ দেশের মধ্যে রয়েছে এশিয়ার চার দেশ—চীন, উত্তর কোরিয়া, জাপান ও তাইওয়ান।
‘গ্লোবাল ডেস্টিনেশন সিটিজ ইনডেক্স : ওরিজিনস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে ভ্রমণকারীর দিক থেকে চীনের অবস্থান ২০০৯ সালের সপ্তম স্থান থেকে বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। এমনকি এশিয়ার এ চার দেশের নাগরিকরা বিশ্বের শীর্ষ ২০০ শহরগুলোর মধ্যে ১৮.৫ শতাংশ ভ্রমণ ব্যয় করে, যা এক দশক আগেও মাত্র ১১ শতাংশ ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর বিদেশে ভ্রমণকারীর দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় অবস্থানে চীন, তৃতীয় জার্মানি, চতুর্থ যুক্তরাজ্য, পঞ্চম ফ্রান্স, ষষ্ঠ উত্তর কোরিয়া, সপ্তম জাপান, অষ্টম কানাডা, নবম রাশিয়া এবং দশম স্থানে তাইওয়ান।
মাস্টারকার্ডের জরিপে মূলত কোন দেশ থেকে ভ্রমণ করা হয় এবং কোনটি গন্তব্য এটি তুলে আনা হয়। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী ২০১৮ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের অবদান ছিল ৮.৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং এ খাত থেকে কর্মসংস্থান এসেছে ৩১৯ মিলিয়ন।
মাস্টারকার্ড এশিয়া প্যাসিফিকের ডাটা ও সার্ভিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট, রুপার্ট নেয়লর বলেন, “এশিয়ার প্যাসিফিকের দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের জন্য সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক বিষয় হলো, গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ খরচে এই অঞ্চলের ব্যয় দিগুণ হয়েছে, কিন্তু আমরা আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের শতকরা হারের খুবই কম গণনা করতে পেরেছি।
তিনি আরো বলেন, ‘এটি চীন, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল তিনটি স্থান। এখানে প্রতি ১০০ জনে যথাক্রমে ১, ০.৫ এবং ১.৭ জন মানুষ ২০১৮ সালে ২০০টি গন্তব্যস্থলের মধ্যে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে গিয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যটন ও ভ্রমণের অসীম সম্ভাবনা প্রদর্শিত হয়েছে। এটি স্থানীয় সরকার এবং ব্যবসার জন্য সুযোগ করে দিয়েছে তাদের ভ্রমণ, পর্যটন ও খুচরা অফারগুলো আরো ভালো পরিকল্পনা করে উপস্থাপন করার জন্য।’
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, উত্তর কোরিয়া ও তাইওয়ানের মানুষজন এখন সবচেয়ে বেশি বিদেশ ভ্রমণ করছে। শীর্ষ দশের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যথাক্রমে ষষ্ঠ ও চতুর্থ স্থান দখল করেছে। তবে এশিয়ার পর্যটকরা এখনো এই অঞ্চলের অভ্যন্তরের গন্তব্যস্থল পরিদর্শন করতেই বেশি পছন্দ করেন, যা আন্ত এশিয়ার সমৃদ্ধির জন্য ভালো।
মাস্টারকার্ড গ্লোবাল ডেস্টিনেশন (জিডিসিআই) ২০০ শহরের ক্রম করেছে তৃতীয় পক্ষের তথ্য থেকে, যার অন্তর্গত ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল, ওএজি, ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ), ইউএনডাব্লিউটিও, জাতিসংঘ, আইএমএফ, দুবাই ডিটিসিএম, বাজেটইউরট্রিপ ডটকম এবং জাতীয় পর্যটন বোর্ড।








