- কৃষিতে কমছে কীটনাশকের ব্যবহার
নওগাঁর রাণীনগরে কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় একটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতির নাম হচ্ছে ‘আলোক ফাঁদ’। এটি ধানে আক্রমণকারী পোকা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার একটি কৃষিবান্ধব পদ্ধতি। দিন দিন উপজেলার কৃষকরা এ কৃষিবান্ধব পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে করে ধানে কোনো ক্ষতিকর পোকার আক্রমণের আগেই চিহ্নিত করে অল্প পরিমাণে প্রতিষেধক প্রয়োগ করায় খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি কমছে কীটনাশকের ব্যবহার। যার কারণে ফলন বেশি হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা লাভবান হওয়ার আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা-আমন মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে কৃষি জমিতে ধান চাষের জন্য অতিরিক্ত মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে কীটনাশকের ব্যবহার। অপরদিকে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কৃষকদের বিভিন্ন রকমের পরিবেশ বান্ধব আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও পদ্ধতি প্রয়োগের প্রতি উদ্ধুদ্ধ করা হচ্ছে। পরিবেশ বান্ধব একটি পদ্ধতি হচ্ছে ‘আলোক ফাঁদ’। এ পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষকরা নিজেরাই সহজেই আমন ফসলের ক্ষেতে ক্ষতিকারক পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি যাচাই করে করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন। এর ফলে জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমছে এবং রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশ। জমির আইলের পাশে প্রায় প্রতিদিনই সন্ধ্যা হওয়ার একটু আগে ও পরে এ আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে এ পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছেন রাণীনগর উপজেলার কৃষকরা। উপজেলার ৮ইউনিয়নের ২৪টি ব্লকে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ও উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় কৃষকরা এ পদ্ধতিটি ব্যবহার করছেন। তাই বর্তমানে এই উপজেলার কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ পদ্ধতিটি।
উপজেলার রনসিংগার গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান জানান, আমরা নিজেরাই আমন ধান ক্ষেতের আইলে কোথাও পানি ভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজের উপর আলো জ্বেলে আলোক ফাঁদ নামের এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ধানে আক্রমণাত্মক ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি চিহ্নিত করে কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতায় কম পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগ করে ধান চাষ করছি। এতে করে পোকার আক্রমণের আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছি। যার কারণে পোকার বড় ধরনের আক্রমণ থেকে ধানকে খুব সহজেই রক্ষা করতে পারছি।
কাশিমপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, আমি আশাবাদি এবার স্মরণকালের রেকর্ড পরিমাণ আমন ধানের ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ধানের বর্তমান বাজার দর অব্যাহত থাকে তাহলে কৃষকরা বিগত সময়ে ধান চাষে যে লোকসান গুনে এসেছেন এ আমন ধান থেকে লাভের মাধ্যমে সেই লোকসানগুলো অনেকটাই পূরণ করতে পারবেন বলে আমি শতভাগ আশাবাদি।
উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আমির আলী জানান, এ আলোক ফাঁদের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই কৃষকদের ধানের ক্ষতিকর পোকা সম্পর্কে বাস্তবে জানাতে পারছি যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তিতে কৃষকরা নিজেরাই এ পদ্ধতির মাধ্যমে পোকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন। এছাড়াও উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে কৃষকদের এ পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ও পদ্ধতি সম্পর্কে উদ্ধুদ্ধ করছি। কৃষকরা এ সব পদ্ধতি ব্যবহার করে লাভবান যেমন হচ্ছেন অপরদিকে রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম জানান, এটি একটি সহজলভ্য পদ্ধতি। কৃষকরা এ পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব সহজেই ধানের ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছেন। এ পদ্ধতিগুলো ব্যবহারের কারণে একদিকে কৃষকদের ধান উৎপাদনে খরচ কম হচ্ছে এবং অপরদিকে কীটনাশকের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশ। এছাড়াও চলতি রোপা মৌসুমে বিগত ৫০ বছরের চেয়ে আমন ধান ভালো হয়েছে। সঠিক পরিচর্যার কারণে ধানে তেমন একটা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ নেই বললেই চলে। যার কারণে প্রতি বিঘা জমি থেকে ২০ মণের অধিক ফলন আশা করা হচ্ছে।








