কুড়িগ্রামের উলিপুরে রোপা আমন চাষিরা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পোকা দমনে আলোক ফাঁদ ব্যবহারে সাফল্য পাচ্ছেন। যা অল্প খরচে এসব রোপা আমনের ক্ষতিকর পোকা ধংস করা সম্ভব বলে জানান রোপা আমন চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এলাকাগুলোর মধ্যে পাতিলাপুর, বাড়াইপাড়া, হাজিপাড়া, বকশিপাড়া, বসনিয়া পাড়া গ্রামে সন্ধ্যায় আলোক ফাঁদ পেতে পোকা দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন রোপা আমন চাষিরা। রোপা আমন চাষিদের এসব পোকা মারার দৃশ্য চোখে পড়ে। আলোক ফাঁদ পেতে মাজরা পোকা, পাতামোড়া পোকা, লেদা পোকা, চুঙ্গি পোকাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পোকার মথ দমন করা সম্ভব বলে জানান রোপা আমন চাষিরা। এছাড়া রোপা আমনের সবচেয়ে ক্ষতিকর পোকা বাদামি গাছ ফড়িং সহ অন্যান্য পোকার উপস্থিতি জানা যায়। এতে করে ক্ষতিকর পোকার হাত থেকে রক্ষা পেতে আগাম প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব হয়।
উলিপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বছর এ উপজেলায় পৌরসভাসহ মোট ২৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বীজতলা রোপনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।
রোপা আমন চাষিদের মধ্যে আব্দুস সামাদ, আরিফুল ইসলাম, হাসেন আলী, মাহাতাব আলী, খবির উদ্দিন, পিন্টু মিয়া বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি অফিসারের সহায়তায় রোপা আমনের ক্ষতিকর পোকা দমনের জন্য আলোক ফাঁদ পাতিয়ে পোকা দমন করা হচ্ছে। আলোক ফাঁদ পেতে পোকা দমনে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছি। তারা আরও বলেন, রোপা আমনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর পোকা যেমন বাদামি গাছ ফড়িংসহ অন্যান্য পোকার উপস্থিত আছে কিনা তাও জানা সম্ভব। যদি এসব ক্ষতিকর পোকার উপস্থিত থাকে তাহলে ক্ষতিকর পোকা নিধনের আগাম ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোস্তফা কামাল বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসারের নির্দেশে আমরা মাঠে রোপা আমন চাষিদের ক্ষতিকর পোকা নিধনের পরামর্শ দেই। তার মধ্যে আলোক ফাঁদ একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতি একটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি। যা অল্প খরচে ক্ষতিকর পোকা নিধন করা সম্ভব। এ ছাড়া সব চেয়ে বেশি ক্ষতিকর পোকার উপস্থিত নির্নয় করা সম্ভব বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর পোকার উপস্থিত পাওয়া গেলে তা নিধন করার পরামর্শ দেয়া হয়।








