‘আমাকে দৃশ্যমান হতে দাও’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে মা ও শিশু স্বাস্থ্য তথ্য বইয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ ও ২৫ আগস্ট কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩তম এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের ড. সাফি ভূইয়া। তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব টরোন্টোতে ক্লিনিকাল পাবলিক হেলথে বিভাগে অধ্যাপনা করছেন। মা ও শিশু স্বাস্থ্যবই নিয়ে কাজ করছেন বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিশ্বব্যাপী মা ও শিশু স্বাস্থ্যতথ্য বইকে ছড়িয়ে দেয়ার কর্ণধার ওসাকা ইউনিভার্সিটি, জাপানের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য তথ্যবইয়ের আন্তর্জাতিক কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. ইয়াসূদী নাকামুরা।
এতে জাপানের ক্রাউন প্রিন্সেস আকিসিনো, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএনএফপিএ, জাইকাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতৃস্থানীয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ মা ও শিশু স্বাস্থ্যতথ্য বইয়ের উপযোগিতা সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
জাপানের প্রিন্সেস আকিসিনো বলেন, মা ও শিশু স্বাস্থ্যবই গর্ভবতী মা, নবজাতক শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য একটি পরিপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। যা একটি দেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সমর্থ্য হবে।
টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডালা লানা স্কুল অফ পাবলিক হেলথের ডিন অধ্যাপক অ্যাডালস্টেইন (স্টেইনি) মন্তব্য করেন, সমাজের অবহেলিত এবং অসহায় মা ও তাদের পরিবারের জন্য বইটি হতে পারে প্রথম স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক নির্দেশনা এবং শিশুর যত্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, টেদ্রোস গ্যাব্রিসাসের স্পেশাল এডভাইসার ড. পিটার সিংগার হ্যান্ডবুকটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নির্দেশক হিসেবে কাজ করে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে টেকসই উন্নয়নের লক্ষমাত্রা অর্জন করতে সাহায্য করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজের এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জেনারেল ড. নাওকো ইয়ামামোতো, ইউএনএইচএফপিএ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সাথিয়া ডোরাইসোয়ামি, জাইকা রিপ্রেজেনটেটিভ ড. জুন সাকুমা সহ প্রমুখ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।
সম্মেলনে মা ও শিশু স্বাস্থ্য তথ্যবইটি বিশ্বব্যাপী প্রচলন করার মাধ্যমে মা ও শিশু মৃত্যুহার কমানোর কমিয়ে তাদের জন্য সুস্থ ও ঝুঁকিমুক্ত জীবন নিশ্চিত করার নিমিত্তে তৈরি করা হয় টরোনন্টো ডিক্লারেশন যা আগামী দিনগুলোতে বইটির ব্যবহার বাড়াতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে আশা করা যায়।
মা ও শিশু স্বাস্থ্য তথ্য বইটি বর্তমানে বিশ্বের ৫২টি দেশে বিভিন্ন পরিসরে মা ও তার পরিবার ব্যবহার করছে এবং এর সুফল ভোগ করছে।
দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হওয়া এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৬১ দেশের প্রায় ১০৪৯ জন অংশগ্রহনকারী জুম কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন যা মা ও শিশু স্বাস্থ্যতথ্য বইয়ের জন্য একটি মাইলফলক। সম্মেলনে আগামী ১৪তম সম্মেলনটি ২০২৪ সালে ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা করা হয়।
ড. সাফি ভূইয়া ২০০২ সালে জাপান সরকারের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশে মা ও শিশু স্বাস্থ্য তথ্যবই প্রচলন করেন। সর্বজনীনভাবে ব্যবহারের সুযোগ পেলে এই বইটি হতে পারে মা ও শিশুর জীবন রক্ষাকারী সময়োপোযোগী হাতিয়ার ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।








