চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত দেশে ভোজ্যতেলর আমদানি কমেছে ২৭ শতাংশ। জুলাই-জানুয়ারি এই সাত মাসে দেশে ভোজ্যতেলের আমদানি কমেছে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন এই তথ্য উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে মাথাপিছু দৈনিক ভোজ্যতেল গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ২৭ গ্রাম। কয়েক বছর ধরেই এ পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা বেশি হলেও উৎপাদন অনেক কম। এর ফলে চাহিদা মেটাতে আমদানিই অন্যতম ভরসা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ১৫১ কোটি টাকার। যেখানে গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আমদানি হয়েছিল ৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে দেশে পণ্যটির আমদানি হ্রাস পেয়েছে ২৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
অন্যদিকে চলমান করোনা সংকটে সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সামনের দিনগুলোয় দেশে ভোজ্যতেলের আমদানি আরো হ্রাস প্রতে পারে। এতে দেখা দিতে পারে ভোজ্যতেলের সংকট। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দেয়ার সম্ভাবনা কম।
জানা গেছে, দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ১৯-২০ লাখ টন। এ চাহিদার বিপরীতে তেলজাতীয় শস্য উৎপাদন হচ্ছে ১০ লাখ টন। এখান থেকে ভোজ্যতেল পাওয়া যাচ্ছে চার-পাঁচ লাখ টন। ফলে দেশে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে প্রায় ১৪-১৫ লাখ টন। মূলত দেশে তেলবীজ উৎপাদন না বাড়ার কারণেই চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করতে হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে।
চাহিদার তুলনায় উৎপাদন সে হারে বৃদ্ধি না পাওয়ায় ভোজ্যতেলের আমদানি গত বছর পর্যন্ত বাড়তির দিকেই ছিল। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছিল ৩ হাজার ১৭৪ কোটি টাকার। এর প্রায় ১৩ বছরের মাথায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ভোজ্যতেলের আমদানি ব্যয় তিন গুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৪৩২ কোটি টাকায়।
প্রসঙ্গত, দেশে ভোজ্যতেলের প্রধানত পাঁচ ধরনের তেলবীজের উৎপাদন হয়ে থাকে। এগুলো হলো সরিষা, চীনাবাদাম, তিল, সয়াবিন ও সূর্যমুখী। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ পাঁচ ফসলের উৎপাদন হয়েছিল ১০ লাখ ৬৪ হাজার টন।
আনন্দবাজার/শহক







