- ফলন অর্ধেক, লোকসানের শঙ্ক
সমগ্র ঠাকুরগাঁও জুড়ে দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি, ঝড়বৃষ্টি এমনিক কালবৈশাখীও হানা দিয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যহত হয়েছে ফসলের। ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে হেক্টর পরিমান ভুট্টার প্রান্তর। উৎপাদন ব্যহত হলেও বাজারে ভুট্টার দাম ভালো থাকায় ভুট্টা ঘরে তুলতে দেখা গেছে কৃষকের ব্যস্ততা। যেন সেই ঝড় বিধ্বস্ত ভুট্টাতেই রাখা আছে লোকসানের শঙ্কায় কপালে ভাঁজ পড়া চাষির বেঁচে থাকার অক্সিজেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিনে দেখা যায়, ঝড়ে নুয়ে পড়া ডাটা থেকে ভুট্টার মচা ভাঙছেন নারী ও পুরুষ কৃষক শ্রমিকরা।
সদর উপজেলার চিলারং এর কৃষক সইফুল ইসলাম বলেন, এবার গ্রামে গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়েছিল। যে সকল কৃষকগণ ভুট্টার চাষ করেছেন তাদের মাঝে আমিও একজন চাষি। ফলনও বাম্পার হয় প্রতিবছর। এ বছরেও দ্বিগুণ ফলন হতো। ঝড়ের কারনে বিঘা প্রতি উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাই খুব দু:শ্চিন্তা করছিলাম। তবে বাজারে ভুট্টার দাম ভালো যাচ্ছে তাই লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবো বলে প্রত্যাশা করছি। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুট্টা বিক্রি করতে চাই।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কৃষক রমিজ উদ্দিন বলেন, আবাদের অর্ধেক ভুট্টার ফসল ঝড়ে আক্রান্ত হয়েছে। তবে দাম থাকায় খরচ উঠে আসবে আশা করছি। তিনি বলেন, প্রতি বছর ৭ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করি। প্রতি বিঘাতে উৎপাদন পেতাম ৭০ থেকে ৮০ মণ। তবে এবার ৪০ এর বেশি পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার।
বেগুনবাড়ি এলাকার কৃষক মিঠু রহমান বলেন, গত বছর লাভবান হয়ে এবার ৪ থেকে ৮ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি। বার বার ঝড়ের কবলে না পড়লে এবার ভুট্টা চাষিরা অনেক বেশি লাভবান হতো। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজার দামে ক্ষতি কিছু কমিয়ে আনলেও লাভবান হতে পারবোনা। এবার মাঠেই কাঁচা ভুট্টা বিক্রি করছি ৮২ কেজির বস্তা ১৮শ’ থেকে ১৯শ’ টাকা দরে। গতবার বিক্রি করেছিলাম সর্বোচ্চ ১২শ’ টাকায়। ভুট্টার দাম ভালো পাওয়ায় মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা অবশিষ্ট ভুট্টা খেতটা আমার কাছে অক্সিজেন মনে হচ্ছে। দামে আমি খুশি। তবে আগাম ভুট্টা ছাড়াও যারা একটু দেরিতে ভুট্টার চাষ করেছে তারা একটু বেশি হতাশাগ্রস্ত।
এ বিষয়ে আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামের কৃষক হাসেম আলী বলেন, মাঝখানে দফায় দফায় শিলাবৃষ্টির কারনে মোচা হওয়ার আগেই ভুট্টার চারা ডাটা ভেঙ্গে গেছে। অনেকের আবার নুইয়ে পড়েছে। ফলন ভালো হয়নি। সে ক্ষেত্রে আমার মতো চাষিরা লোকসানে পড়বেন। উৎপাদন খরচ উঠে আসাও কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। ভুট্টা ব্যবসায়ী আখতার হোসেন বলেন, এবার ভুট্টার উৎপাদন ভালো হয়নি। অনেক টাকা বিনিয়োগ করে ভুট্টা কিনতে হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে ভুট্টা কিনতে গেলে দেখা যাচ্ছে ভালো মানের দানাদার ভুট্টা মিলছেনা। ঝড়ের কারনে যেসব ভুট্টা হেলে গেছে বা পড়ে গেছে সেসব ভুট্টার দানা খুব একটা ভালো পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে দাম ভালো পাওয়ায় ওভাবেই ভুট্টা দ্রুত সংগ্রহ করছে কৃষক।
ঠাকুরগাঁও থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ ট্রাক ভুট্টা জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে বলে জানান ভুট্টা ব্যবসায়ী আখতার হোসেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য সূত্রে, এবার জেলাজুড়ে রবি ভুট্টার চাষ হয়েছে- ৩৩ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে এবং গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা ১৭ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৭ টন। এখন পর্যন্ত রবি ভুট্টার কর্তন হয়েছে ৭ হাজার ৬৪৮ হেক্টর জমির। যা থেকে উৎপাদন এসেছে ৮১ হাজার ৮৩৪ মে.টন.।
গ্রীষ্মকালীন আবাদি ভুট্টার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৩৯ টন। তবে ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা।
কৃষি বিভাগ বলছে, ঝড়ে মোট আক্রান্ত হয়েছে ২৭৬০ হেক্টর জমি। যার মধ্যে চুড়ান্ত ক্ষতির হিসাব দেখানো হয়েছে ৬৪২ হেক্টর।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হোসেন বলেন, এবার কয়েক দফায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। যার কারণে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হতে পারে। তবে এখনও যে পরিমাণ শস্য মাঠে আছে তা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য হতে পারে।








