কাঁচামাল সংকটে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে খুলনা বিভাগসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শিল্প-কারখানা সিরামিক কারখানার উন্নয়ন। এতে খুলনা অঞ্চলে সিরামিকের দামও বেশি পড়ছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিরামিকের কাঁচামালের ওপর থেকে ল্যান্ডিং চার্জ মওকুফ বা কম করা হলে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে আরো বেশি কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হবে। এতে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা আরো বেশি সচল হবে। দেশের দুই প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের দ্বৈত নীতির কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন এ অঞ্চলের আমদানিকারকরা। সেজন্য তারা চট্টগ্রাম বন্দরের ন্যায় মোংলা বন্দরের অবতরণ ফি (ল্যান্ডিং চার্জ) মওকুফের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের মেসার্স তুষার সিরামিক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইঞ্জিনিয়ার মোখলেসুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দরে ল্যান্ডিং চার্জের কারণে সিরামিক কাঁচামাল আমদানিতে বাড়তি খরচ হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবার মোংলা বন্দর দিয়ে সিরামিকের কাঁচামাল আমদানিতে আমার ৮৭ লাখ টাকা বাড়তি ব্যয় হয়েছিল। ওই সময় চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করা হলে এ টাকা খরচ হতো না। ল্যান্ডিং চার্জ নীতির কারণে মোংলা বন্দর দিয়ে এ বাড়তি ব্যয় হয়।
ওই ঘটনার পরই মোংলা বন্দরের ল্যান্ডিং চার্জ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
মোংলা বন্দরে সিরামিকের কাঁচামালের জন্য টনপ্রতি নেয়া হয় ২৫০ টাকা। এর বাইরে রয়েছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। সব মিলিয়ে মোংলা বন্দরে এক টন পণ্য এলে একজন আমদানিকারককে গুণতে হয় ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা। যেখানে চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো ধরনের ল্যান্ডিং চার্জ দিতে হয় না।
খুলনার স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ম্যাক্স শিপিংয়ের স্বত্বাধিকারী কামরুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরে ল্যান্ডিং চার্জ মওকুফ করা হলে এখানে জাহাজের আগমন আরো বেশি হতো। বার্জ মালিকসহ এ কাজের সঙ্গে জড়িতরা উপকৃত হতেন। খুলনা অঞ্চলের ঘাটগুলো থেকে আরো বেশি রাজস্ব আদায় হতো। রেলওয়ের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহন হতো এবং রেলওয়েও লাভবান হতো। কিন্তু জাহাজ কম আসায় তা হচ্ছে না।
অন্যদিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মোংলা বন্দর সৃষ্টির পর থেকেই ল্যান্ডিং চার্জ চলমান আছে। এই আয় থেকে বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও পেনশন দেয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে মোংলা বন্দরের তুলনা করলে হবে না। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতি মাসে ৩০০টি জাহাজ আসে। এর বিপরীতে মোংলা বন্দরে আসে মাত্র ৬০ থেকে ৭০টি।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস








