সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাহাড়ি টিলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ হচ্ছে বোম্বাই মরিচ হিসাবে খ্যাত নাগা মরিচ। নানা জাতের লেবুর পাশাপাশি একই বাগানে নাগা মরিচের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা।
জানা যায়, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় উৎপাদিত ‘নাগা’ মরিচের বাৎসরিক বিক্রয় মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা স্থানীয় ও দেশ বিদেশের ব্যাপক চাহিদার এ মরিচ ঝাল, ঘ্রাণ আর রং-এই তিন গুণেই আকৃষ্ট করে ভোজন রসিকদের। সিলেট অঞ্চলের ব্যাপক জনপ্রিয় এ ‘নাগা’ মরিচ। দিন দিন যেমন বাড়ছে নাগা মরিচের চাহিদা। ফলে স্থানীয়ভাবে বাড়ছে এর উৎপাদনও।
জেলার ৭টি উপজেলার পাহাড়ি টিলায় দিন দিন নতুন করে বিস্তৃত হচ্ছে ‘নাগা’ মরিচের চাষ। সখের বশে বাড়ির আঙিনা আর ক্ষেতের আইলের চাষকৃত ‘নাগা’ মরিচ এখন পাহাড়ি টিলার বিশাল এলাকাজুড়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ হচ্ছে। জেলার কুলাউড়া, জুড়ী বড়লেখাসহ অনান্য উপজেলাতে কম-বেশি ‘নাগা’ মরিচ চাষ হলেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যাপক পরিসরে চাষ হচ্ছে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে। কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের উত্তর-পশ্চিম পাশের (কমলগঞ্জ ইউনিয়নের ৪নং ওর্য়াড এলাকায়) পাহাড়ি এলাকায় ১৫-২০টি লেবু বাগানের সাথে চাষ হচ্ছে ‘নাগা’ মরিচ।
ওখানকার চাষী দেলওয়ার হোসেন, এনামুল হক, নাজমুল হক, হেলেনা আক্তার, দিলারা বেগম ও বালিগাঁও’র সানুর মিয়াসহ অনেকেই জানালেন, লেবু বাগানের সাথে তারা চাষ করছেন ‘নাগা’ মরিচ।প্রতিটি বাগানে ১ হাজার থেকে শুরু করে ১৫-২০ হাজার গাছও লাগানো হয়েছে। লেবু গাছের গোড়া ঠান্ডা রাখতে লেবু গাছের গোড়ার পাশেই রোপণ করা হয় ‘নাগা’ মরিচের গাছ। উভয় ফসলই একে অপরের উপকারী হয়ে ভালো ফলন দেয়। ফলে লেবুর পাশাপাশি বাড়তি আয় হচ্ছে ‘নাগা’ মরিচ চাষ করে।
কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের টিপরাবাড়ী মৌজার মাঝের ছড়া এলাকার বাসিন্দা সাবেক মেম্বার মোঃ হারিছ মিয়া, চাষী লেবু মিয়া, লুৎফুর মিয়া জানান, তাদের এলাকায় কম- বেশি ‘নাগা’ মরিচের চাষ হলেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যাপক পরিসরে শতাধিক লেবু বাগানের সাথে ‘নাগা’ মরিচের চাষ করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলের রাধানগর, বিষামণি, মহাজিরাবাদ, ডলুবাড়ি ও ইস্পাহানী, কমলগঞ্জের মাবপুর ইউনিয়নের পদ্মছড়া, পুরানবাড়ী, মাঝের ছড়া, টিলাগাঁও, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বালিগাঁও,সরইবাড়ী,বাঘমারা এলাকা এবং আলীনগর, শমশেরনগর, আদমপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চাষ হচ্ছে এ জাতীয় মরিচ।
সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা যায়, সর্বপ্রথম ২০১১ সালে জাপানে মরিচ রপ্তানি শুরু হয়। জাপানের পরে মালয়েশিয়াসহ আরো একাধিক দেশ এতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এরপর থেকে ক্রমে রপ্তানির পরিমাণ যেমন বাড়ছে, তেমনি চাষও সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলা এ্যাগ্রো নামের একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জাপানের ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী চাষীদের কাছ থেকে নাগা মরিচ সংগ্রহ করে এবং তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে তা শুকিয়ে গুঁড়া করে প্যাকেটজাত করে রপ্তানি করছে।
জেলার মধ্যে ‘নাগা’ মরিচের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার শ্রীমঙ্গল। এই বাজারের মজই মার্কেটের ‘নাগা’ মরিচের আড়তদার তুহিন মিয়া জানান, লেবু বাজারের পর দুপুর থেকে বিক্রি চলে ‘নাগা’ মরিচের। হাজার বা বস্তা হিসেবে তারা ‘নাগা’ মরিচ ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন। প্রতিদিন শ্রীমঙ্গল বাজারে ৩-৪ লক্ষ টাকার ‘নাগা’ মরিচ বিক্রি হয়।
আনন্দবাজার/রনি/রম







