নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় মাঠে মাঠে আমন ধান সোনালি রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের চাষ কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে। উপজেলার শাহাগোলা, ভোঁপাড়া, মনিয়ারী ও বিশাসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে চিনিআতপ ধানের সর্বাধিক পরিমান চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। অনেকে আগাম জাতের আমন ধান কর্তনও করছেন। তবে চিনিআতপ ধান চাষের জন্য খ্যাত মনিয়ারী ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে সোনালি রঙে রঙ্গিন হয়ে উঠেছে মাঠ। মাঠে ধান কর্তন ও মাড়াই শুরু হওয়ায় এলাকাগুলো মোহিত হয়ে উঠেছে চিনিআতপ ধানের সুগন্ধিতে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৫ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও চাষ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে এবার আমন চাষ করা হয়েছে। গতবারের মত বন্যা না হওয়ায় এবারে উপজেলার আমন চাষিরা স্বস্তির সাথে আমন ধানের চাষ করেছেন। শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তারা এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
জানা যায়, চিনিআতপ ছাড়াও এবার অনেক কৃষক ব্রি-ধান ২৪, ব্রি-ধান ৩৪, জিরাসাইলসহ বিভিন্ন জাতের ধানের চাষ করেছেন। উপজেলার নওদুলী গ্রামের আদর্শ কৃষক আলহাজ শফির উদ্দিন বলেন, আগের চেয়ে বেশি পরিমান জমিতে চিনিআতপ ধানের চাষ হয়েছে। অন্যান্য ধানের তুলনায় এধানের দাম বাজারে সব থেকে বেশি পাওয়া যায়। তাই আমরা এ ধান অধিক পরিমানে চাষ করে থাকি। এখন ধান পাকতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে পাকা ধান কর্তন শুরু করেছি। ধানের যেমন ফলন তেমন দাম পেয়ে আমরা আনন্দিত।
উপ-সহাকরী কৃষি কর্মকর্তা কেরামত আলী জানান, আমন চাষের শুরু থেকেই পোকার আক্রমণ থেকে ধান বাঁচাতে কৃষকদের ক্ষেতে কঞ্চিপুতে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যাতে ওই সমস্ত কঞ্চিতে পাখি বসে জমির ক্ষতিকর পোকা নিধন করতে পারে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম কাউছার হোসেন বলেন, চলতি আমন মৌসুমে কৃষকদের কাঙ্খিত ফসল অর্জনে প্রতিটি বøক পর্যায়ে গিয়ে ক্যাম্পেইনসহ নানা ধরণের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।








