পাটশিল্প রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। এ দাবিতে গত মঙ্গলবার পৃথক চিঠিও দেওয়া হয়েছে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কাছেও চিঠি পাঠিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে পাটপণ্যের উদ্যোক্তাদের দুই সংগঠন জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) এবং জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ) এ চিঠি দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, পাট খাত টিকিয়ে রাখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মৌসুমেই এখন কাঁচা পাটের অভাব। কৃষকের হাতছাড়া হওয়ার পর দাম এখন গত বছরের প্রায় দ্বিগুণ। অস্বাভাবিক বেশি দামের কারণে পাটপণ্য উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। বাড়তি দামেও মিলছে না কাঁচা পাট। কাঁচা পাটের অবৈধ মজুদ এবং অস্বাভাবিক রফতানির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাটের অভাবে আর কয়েক মাস পর মিলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে আগামী মৌসুমে দেশে পাটের চাহিদা থাকবে না। পাট খাতে এখন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে চার কোটি মানুষের জীবিকা চলছে। ফলে গোটা অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এছাড়া চিঠিতে পাটের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে কাঁচা পাট মজুদ বন্ধ করা, একজন লাইসেন্সধারী এক হাজার মণের বেশি যাতে সংগ্রহ করতে না পারে এবং এক মাসের বেশি যাতে মজুদ রাখতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থলবন্দরের পরিবর্তে সমুদ্রবন্দর দিয়ে রফতানির ব্যবস্থা করা। স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা পাট পাচার হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচা পাট রফতানি নিয়ন্ত্রণে টনপ্রতি অন্তত ২৫০ ডলার রফতানি শুল্ক আরোপ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিজেএমএর চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, রফতানি খাতের বড় পণ্যের মধ্যে একমাত্র পাটপণ্যেই প্রায় শতভাগ মূল্য সংযোজন হয়। এক টন কাঁচা পাট রফতানি করে যে আয় হয়, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পাটপণ্য রফতানি থেকে আসে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সুবিধার ব্যবধানটা আরও বড়। এক টন কাঁচা পাট রফতানিতে পাঁচ থেকে ছয়জনের কর্মসংস্থান হয়। অথচ এক টন পাটপণ্য রফতানিতে ৭০ থেকে ৮০ জনের কর্মসংস্থান হয়।
গত অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্য রফতানি থেকে দেশে আয় এসেছে ৮৮ কোটি ডলার। এর মধ্যে কাঁচা পাটের অংশ ছিল ১৩ কোটি ডলারের কম। চলতি অর্থবছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ১১৭ কোটি ডলার। এই লক্ষ্যমাত্রায় কাঁচা পাট রফতানি থেকে ১৮ কোটি ডলার আসার কথা। বাকি প্রায় ১০০ কোটি ডলার আসবে পাটপণ্য রফতানি থেকে। গত জুলাই-আগস্টে রফতানি হয়েছে ২০ কোটি ডলারের পাট ও পাটপণ্য।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস







