- কাচাঁমালের মূল্যবৃদ্ধি-পুঁজি সংকট
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তাবিজ শিল্পের উপর নির্ভরশীল ৪’শ পরিবার। এক সময় এ শিল্পের ব্যপক সাফল্য থাকলেও বর্তমানে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও পুঁজি সংকটে এ শিল্পের কারিগরদের দুঃখ-দুর্দশার যেনো শেষ নেই। শিল্পটি এখন অস্থিত্ব সংকটে। স্বাধীনতার পূর্ব থেকে রূপগঞ্জের মুশরী, বিংরাবো, দক্ষিণবাগসহ আশেপাশের ৩ গ্রামের মানুষ তাবিজ শিল্পের উপর ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরে সময়ের সঙ্গে সব কিছুতে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগলেও কোন পরিবর্তন আসেনি অবহেলিত এ তাবিজ ব্যবসায়ীদের ভাগ্যে। দিনরাত পরিশ্রম করেও এখন তাবিজ কারিগররা অর্ধহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
এক সময় এ শিল্পের কারিগরদের হাতে তৈরি তাবিজ জেলা ছেড়ে চট্টগ্রামসহ সারাদেশ ছাড়িয়ে ভারতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হতো। এখনও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু আগে পরিশ্রম করে যে টাকা রোজগার করতে পারতেন তাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে পড়ে ভালোভাবেই চলতে পারতেন। কিন্তু এখন আগের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করেও পাইকারদের পুঁজিতে ব্যবসা করায় ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিতে এ শিল্পে চলছে অস্তিত্বের লড়াই।
তাবিজ ব্যবসায়ী হারিস বিশ্বাস, নরেন্দ্র বিশ্বাস, মজু মিয়া, নিল মিয়া, চান্দু মিয়া, ফুল চান, গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, সনজিবন দাসসহ আরো অনেকে জানান, একটি তাবিজ তৈরি করতে টিনকাঁটা, বাঁধাই করা, ঝালাই করা, পোঁড়ানো, মাটি পরিষ্কারসহ ১৭ রকমের কাজ করতে হয়। এতে প্রতিটি তাবিজ তৈরি করতে খরচ পড়ে ৫৫ থেকে ৬০ পয়সা। অথচ পাইকারদের পুঁজিতে ব্যবসা করায় তাদের কাছে ওই তাবিজটি বিক্রি করতে হয় ৬০ থেকে ৭০ পয়সায়। আর নিজস্ব পুঁজিতে ব্যবসা করলে একই তাবিজ বিক্রি করা যেতো ৮০ থেকে ৯০ পয়সায়। এতে লাভের বেশির ভাগই চলে যায় পাইকারদের পকেটে।
তারা আরো জানান, আমাদের বাপ-দাদার এ ব্যবসাটি এখন পুঁজির অভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সারাবছর পরিশ্রম করেও তাবিজ কারিগরদের পবিারের লোকেরা দু-বেলা দু‘মুঠো ভাত খেতে পায়না। আর এ সামন্য আয় দিয়ে পরিবার চালিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা চালানো যেন দু:স্বপ্নের মতো। সরকার বিভিন্ন খাতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে, যদি আমাদেরকে পুঁজির ব্যবস্থা করে দিতেন তবে আমরা আমাদের বাপ-দাদার ব্যবসাটিকে টিকিয়ে রাখতে পারতাম। পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ্ নুসরাত জাহান বলেন, তাবিজ শিল্পের কারিগরেরা যদি আবেদন করে, সরকারি কোন সুযোগ থাকলে তাদেরকে দেয়া হবে।
আনন্দবাজার/এম.আর








