কোথাও যুদ্ধ লেগেছে এটা শুনলেই যে কারো ভেতর আঁতকে না উঠে পারে না। বিশেষ করে বাঙালিরা যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ স্বচক্ষে দেখেছেন। সে কারণেই যুদ্ধ কারো কাম্য নয়। কাম্য হতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধ ছাড়া আবার অনেক কিছুই আদায় করা সম্ভব হয় না। এটাও সত্য। এই যুদ্ধ কত মানুষকে নিঃস্ব করে, সর্বস্বান্ত করে, পথহারা করে। আমরাও সেই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জন করা একটি দেশ। যে দেশ স্বাধীনতার জন্য ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধে অগণিত শহীদ, মা বোনের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়েছে।
বহু মায়ের বুক খালি হয়েছে। বহু মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে আজও মানবেতর জীবন যাপন করছে। পাক বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনের বিভীষিকাময় সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে অনেকে আজও আঁতকে ওঠেন। যুদ্ধের ক্ষতি যে নির্মম তা উপলদ্ধি আমাদের দেশের মানুষের চেয়ে হয়তো বেশি কারও নয়। যদিও সবকিছুর বিনিময়েই আমরা এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। তারপরও যুদ্ধ কোনো বাঙালির প্রত্যাশিত নয়। বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের কারোরই যুদ্ধ কাম্য নয়। তারপরও দেশে দেশে যুদ্ধ, জাতিতে জাতিতে যুদ্ধ থেমে নেই। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে আজ সারাবিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে অন্ধকারতম সময় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হল এই যুদ্ধ কি থামাতে সক্ষম সম্মিলিত বিশ্বশক্তি। যুক্তরাষ্ট্র আশংকা করছে যুদ্ধে জয়লাভের জন্য রাশিয়া পারমাণবিক হামলা পরিচালনার নীতি অবলম্বন করতে পারে। ফলে নতুন করে পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি নেবে কিনা তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ভাবতে হবে। তবে হঠাৎ করে কেনই বা এত টালমাটাল হয়ে উঠল বিশ্ব- তা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এই যুদ্ধ পুরো বিশ্বের অর্থনীতির ওপর দারুণ প্রভাব ফেলেছে৷ আরও কঠিন প্রভাব ফেলবে। যা এই সময়ে, বিশেষ করে এমন একটি মহামারি চলমান অবস্থায় সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বিশ্বের সার্বিক অর্থনীতি এমনিতেই গত দু’বছরে নাজুক অবস্থায় পড়েছে। এরমাঝে এই যুদ্ধ পুরো বিশ্বকে গভীর চিন্তার মধ্যে ফেলেছে। প্রভাব পড়েছে সারাবিশ্বে। ইতোমধ্যেই তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্ব শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বকে কোন অবস্থায় নেবে তা নিয়ে এ মুহূর্তে পুরোটা আঁচ করা না গেলেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে তা জোর গলায় বলা যায়। ফলে যুদ্ধ সময়কালীন বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে কূটনৈতিকদের ভাবতে হবে।
ইউক্রেনে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা বা নিরাপদ স্থানে রাখার উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে নিতে হবে। এব্যাপারে যাতে কোনো গড়িমসি না হয় তা নজর রাখতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তৎপর থাকতে হবে। বাঙালিরা যেমন অনেকে ইউক্রেন ছাড়তে শুরু করেছেন, আবার অনেকে সেখানে ব্যবসা বাণিজ্য করেন, পরিবারের পরিধি বিস্তৃত করেছেন তারা ঐ দেশ ছাড়তে চাইছেন না। তাদের ব্যাপারেও বাংলাদেশ সরকারের সেখানকার দূতাবাসকে সহযোগিতা করতে হবে। যারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পথে বেরিয়েছেন তাদের অবস্থান জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
যদিও ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউক্রেনে বসবাকারীদের সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। অবশ্য ইউক্রেন প্রবাসীরা এব্যাপারে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও তৎপর হলে সে দেশে দুরাবস্থা দুর্ভোগে থাকা বাঙালিরা নিরাপদে আশ্রয় পাবে।








