মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুলে ফুলের (উলুফুল) ঝাড়ু বিক্রি করে ভাগ্যবদলের স্বপ্ন দেখছেন মো. ইস্রাফিল মাদবর নামে এক যুবক। এ উদ্যোক্তা “বিক্রমপুর কুটির শিল্প” নামে একটি কারখানা গড়ে তুলেছেন। ঝাড়ুর কারখানায় ৫ থেকে ৬ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। কারখানায় তৈরি এসব ঝাড়ু পাইকারিভাবে বিক্রি হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ জেলাসহ পার্শ্ববর্তী ঢাকার জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পাইকারি হাটবাজারে। প্রতিমাসে এখানে প্রায় ১২ হাজার পিস ফুলের ঝাড়ু উৎপাদন হচ্ছে। বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ঝাড়ু বিকিকিনি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একটি টিন শেডে বিল্ডিংয়ের মধ্যে ঝাড়ু বাঁধাইয়ের কাজ হচ্ছে। উলুফুলের কাঠি সঠিক মাপে কেটে চিকন গুনা/তার, সুতা ও কস্টটিভ প্যাঁটিয়ে ঝাড়ু বাঁধাই করছেন। একেকটি ঝাড়ু বাঁধাই কাজে সময় লাগছে ৩ থেকে ৪ মিনিট। শ্রমিক সবজল শেখ ও সবুজ মাদবর বলেন, তারা সকাল-সন্ধ্যা কাজ করেন। বাঁধাই করা এসব ঝাড়ু প্রস্তুতের মজুরি পাচ্ছেন। প্রতিটি ঝাড়ু বাঁধায়ের জন্য ২ টাকা ২০ পয়সা পান তারা। একাজে দিন শেষে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা আয় হচ্ছে তাদের।
জানা যায়, ভাগ্যকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ কামারগাঁও মো. ইব্রাহিম মাদবরের ছেলে মো. ইস্রাফিল প্রায় ১২ বছর পূর্বে মাদবর ঝাড়ু ওই এলাকার বালাশুরে সীমিত পরিসরে ঝাড়ু তৈরির কাজ শুরু করেন। ঝাড়ুর চাহিদা বাড়ায় উদ্যোক্তার নিজ বাড়িতে প্রতিষ্ঠানটি স্থান্তর করেন। ব্যবসাটি লাভজন হওয়ায় ইস্রাফিলের দুই ভাই কাদির মাদবর ও শওকত মাদবর কামারগাঁওয়ে আলাদা আলাদাভাবে ঝাড়ুর ২টি কারখানা গড়ে তুলেন। এসব ফুলের ঝাড়ু পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত। নিজস্ব কারখানায় তৈরিকৃত এসব ফুলের ঝাড়ু বিক্রি করে তারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
বিক্রমপুর কুটির শিল্পের কর্ণধার মো. ইস্রাফিল মাদবরের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চাহিদা অনুসারে পাইকারি দরে এসব ঝাড়ু বিভিন্ন দোকানীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তার এখানে উলুফুলের ৩ থেকে ৪ ধরনের আকার ও সাইজের ঝাড়ু প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঝাড়ু তৈরির মূলউপকরণ উলুফুল পাইকারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে আনেন তিনি।








