বর্তমানে আফ্রিকান দেশ নামিবিয়ায় চলছে প্রচণ্ড খরা। তাই খাবারের অভাবে বন্য হাতির দল ঢুকে পড়ছে এলাকায়। এই পরিস্থিতিতে দেশটি ঠিক করেছে, ১৭০টি বন্য হাতি নিলামে তুলবে তারা। কারণ দেশে হাতির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে বেড়ে যাচ্ছে মানুষের সাথে হাতির সংঘর্ষ।
জানা গেছে, আফ্রিকার দক্ষিণের এই দেশটির পরিবেশ মন্ত্রালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সেই সাথে দেশটির সরকারি এক সংবাদপত্রে এ নিয়ে বিজ্ঞাপনও বের হয়েছে।
সেখানে জানানো হয়েছে, চোরাশিকার ও পরিবেশগত কারণে হাতিরা বর্তমানে ব্যাপক বিপন্ন, তাই এভাবে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা। নামিবিয়া বা বিদেশের যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের দেওয়া সকল শর্ত পূরণ করবে, তাদের কাছেই হাতি বিক্রি হবে।
শর্তের মধ্যে রয়েছে এই করোনার মধ্যে হাতিদের কোয়ারেন্টাইনের সুবিধার জন্য ও যে জমিতে হাতি রাখা হবে, সেখানকার জন্য যেন তাদের গেম-প্রুফ ফেন্স সার্টিফিকেট অবশ্যই থাকে। আর যদি কোনও বিদেশি হাতি কিনতে উৎসাহী হন, তাহলে প্রমাণ দেখাতে হবে যে তার দেশের প্রশাসনের ওই হাতি আমদানির ব্যাপারে কোনও আপত্তি নেই।
আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের মত নামিবিয়াও হাতি ও গণ্ডারের মত অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রাণীগুলিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। জঙ্গল, ঘাসজমি কমে আসা, খরা, খাবারের অপ্রতুলতা ও পরিবেশ পাল্টে যাওয়ার মত বিভিন্ন কারণে এসকল প্রাণি লোকালয়ে এসে পড়ছে, যার ফলে ঘটছে সংঘর্ষ।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে নামিবিয়ায় হাতির সংখ্যা ছিল ৭,৫০০। ২০১৯ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৪,০০০। হাতি বাঁচাতে আন্তর্জাতিক অর্থসাহায্যও পায় তারা। যদিও গেল বছর নামিবিয়া জানিয়ে দিয়েছে, বিপন্ন জন্তুদের বাঁচাতে যে আন্তর্জাতিক নিয়ম রয়েছে সেখান থেকে তারা নিজেদের সরিয়ে নিতে চায়। বিপন্ন জন্তুর শিকার বা বিদেশে রফতানিতে তাদের আপত্তি নেই, এর ফলে যে অর্থ উঠবে, তাতে ওই সকল জীবজন্তুর রক্ষণাবেক্ষণ হবে বলে তাদের দাবি।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে








