গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুর ও সুন্দরগঞ্জ ইউনিয়ের ফুলচাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আসন্ন বিজয় দিবসের পাশাপাশি মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে এ ব্যস্ততা ফুল চাষিদের। করোনার কারণে ফুল বিক্রিতে ধস নামায় তাদের লোকসান মুখে পড়তে হয়। এতে ফুল চাষের জমিতে অনেকে ধান ও আগাম জাতের লাউ চাষ করেন। তবে আবারো ফুলের চাষ করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চায় চাষিরা। বিভিন্ন দিবসগুলোতে ফুলের চাহিদা থাকে বেশি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফুলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় কৃষকরা এখন ফুল চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের সাহযোগিতায় উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে নতুন করে ফুল চাষ শুরু হয়েছে।
কৃষিবিভাগ জানায়, জেলার সাদুল্ল্যাপুর, পলাশবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় করোনা সংক্রমণের পূর্বে ফুলের আবাদ ছিলো ৫০ হেক্টর। তবে বর্তমানে লাভজনক এ আবাদ কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হেক্টরে। জেলার সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জে ফুলের সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে। বাগানে শোভাপাচ্ছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাদা, গøালাডিওলাক্সাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। ফুলের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক চাষি। বাগানের পরিচর্যা, ফুল উঠানো, বাজারজাত করনে কর্মসংস্থানও হয়েছে অনেকের। ফুল চাষে সম্পৃক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে অনেকে। গাইবান্ধায় ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফুল চাষ। এক সময় রংপুর, যশোর, ঝিকোরগাছা, গাজিপুরসহ বিভিন্ন জেলার ফুল দিয়ে গাইবান্ধার ফুলের চাহিদা মিটানো হত। গত দুই বছর করোনায় ফুলের চাহিদা না থাকায় ফুল চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন অনেকে। তাই নতুন করে ফুল চাষে আগ্রহী হচ্ছে ফুল চাষিরা।
ফুল চাষিরা জানান, ফুল চাষে প্রতিবিঘা জমিতে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়। এতে আয় হচ্ছে ১২ থকে ২০ হাজার টাকা। প্রতিপিচ গোলাপ বিক্রি হয় ৮ টাকা ধরে, রজনীগন্ধা ৬ টাকা ও গাঁধা ফুল ১ হাজার পিচ ২০০ টাকা দরে।
ফালচাষি সাজু মিয়া জানান, সামনে স্বাধীনতা দিবস, বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও একুশে ফেব্রæয়ারী। এসব দিবসে ফুলের ভালো দাম হয়। তাই করোনার ক্ষতিপুষিয়ে নিতে একবিঘা জমিতে গোলাপ, গাদা ফুলের চারা রোপন করছি। আশা করা যায় আগের ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে পারবো। একবিঘা জমিতে রোপনের জন্য রীজ সহ ৬ হাজার চারা কিনেছি ৪ হাজার টাকা দিয়ে। তিনি আরো জানান, এমনচিত্র জেলা সদর, সাদুল্ল্যাপুর, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জসহ ফুল উৎপাদনকারী এলাকার চাষীদের। অব্যাহত লোকসানে দিশেহারা চাষিদের অনেকেই ফুলের পরিবর্তে ধান কিংবা সবজির চাষ করেছে। তবে আশাহত এসব কৃষকরা সুখের দিন আসবে এমন আশায় রঙিন স্বপ্ন তাদের চোখে মুখে। অনেক ফুল চাষিই এখন স্বপ্ন বুনছেন। সেই স্বপ্নে কেউ নতুন করে চারা রোপন করছেন। কেউবা রোপনকৃত চারা পরিচর্যা করছেন। এখন থেকে পরিচর্যা করা গেলে দেড় থেকে দুই মাস পর ভালো মানের ফুল পাওয়া যাবে।
ফুল চাষি তারা মিয়া জানান, করোনার আগে প্রায় তিন বিঘা জমিতে গরম জাতের গাদা ফুল ছিল। লকডাউনে পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ক্ষেতের ফুল তুলে একবারেই বাজারে বিক্রি করতে পারছিলাম না। যার করণে সব গাছ কেটে ফেলি। এতে আমার লোকসান হয় দুই লাখ টাকা। ফুল গাছ কেটে ধান লাগিয়েছিলাম। আর অল্প একটু জমিতে সবজি চাষ করেছি। তবে যে জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম সেখানে পুনরায় ফুল চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছি।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেলাল হোসেন জানান, গাইবান্ধায় জেলায় মোট ৩০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে। তবে সামনের দিনগুলোতে চাষিরা যাতে ভালোমানের ফুল পেতে পারে এ জন্য তাদেরকে উন্নত মানের চারা রোপন, রোগ-বালাই দমন থেকে শুরু করে নানা কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে কম জমিতে কিভাবে বেশি ফুল উৎপাদন করা যায় সে বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দিচ্ছি আমরা।
আনন্দবাজার/এম.আর








