দারিদ্র্যের কাছে পরাজয় না মেনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অনেকের কাছেই এখন আদর্শ হয়ে উঠেছেন আব্দুল গফুর। উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাস চাষ করেেই তিনি এখন কোটি টাকার মালিক।
জানা গেছে, পৈত্রিক সূত্রে আড়াই বিঘা জমি পেয়েছিলেন তিনি। সেই জমিতে ফসল ফলিয়ে তার সংসার ঠিকমত চলত না।তাই খেয়ে না খেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হতো তাদের।
২০০৪ সালের প্রথম দিকে পলাশবাড়ির হোটেলের মালিক দুলু মিয়ার কাছ থেকে এই নেপিয়ার জাতের ঘাসের বহুমুখী ব্যবহারের কথা শুনে এই ঘাস চাষে উদ্বুদ্ধ হন আব্দুল গফুর। এরপর তিনি নেপিয়ার ঘাসের চারা সংগ্রহ করে প্রথমে তা নিজের বাড়ির পাঁচশতক জায়গায় লাগান।
একমাস পরপর তিনবছর পর্যন্ত কাটা যায় এই ঘাস। এর আগে পাবলিক সমিতি থেকে সাত হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি ছোট গাভী কেনেন তিনি। গাভীটির একটি বাছুরও হয়। পরবর্তীতে সেই ঘাস বড় হলে গাভীকে খাওয়ানো শুরু করেন। ফলে গাভীর দুধ বাড়তে থাকে। আবার ঘাস বিক্রি করে ভালো টাকা পেতে শুরু করেন তিনি।
ধীরে ধীরে ঘাসের জমির পরিমাণ বাড়াতে থাকেন তিনি। এখন সতের বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করছেন তিনি। একবিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ পড়ে প্রায় দশ হাজার টাকা। প্রতিমাসে খরচ বাদে ঘাস বিক্রি করে তার এখন মাসিক আয় প্রায় ৯০ হাজার টাকা।
বর্তমানে তার খরের ঘরের বদলে বিশ শতক জমিতে ১০৫ হাত লম্বা আধাপাঁকা ঘর রয়েছে। এই ঘরেরই তিনটি কক্ষ গরুর খামার। বর্তমানে তার খামারে আছে ১৬টি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী। এসব গাভী দৈনিক দুধ দিচ্ছে ১২০ কেজি করে। ঘাসের জমিতে পানি সেচের জন্য দুইটি শ্যালোচালিত মেশিন আছে। এছাড়া ৫০টি হাঁস-মুরগি, পাঁচটি ছাগল রয়েছে তার।
বাড়িতে বিদ্যুৎ ছাড়াও রয়েছে- একটি সৌর বিদ্যুৎ, দুইটি মোটরসাইকেল ও তিনটি ভ্যান। কর্মচারী রয়েছে তিনজন, তাদের প্রতিজনের মাসিক বেতন ৯ হাজার টাকা। তারা প্রতিদিন জমি থেকে ঘাস কেটে পলাশবাড়ী, ঢোলভাঙ্গা, ধাপেরহাট, মাঠেরহাট ও গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। আব্দুল গফুর বলেন, আমার স্বপ্ন ব্যাপকহারে এই ঘাস চাষ করে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করা। যেন আরো অনেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই নেপিয়ার ঘাস চাষ করে তাদের ভাগ্য বদলাতে পারে।
আনন্দবাজার/তাঅ








