বাংলাদেশ ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হওয়ার যে স্বপ্ন দেখছে তা শব্দ দূষণের কারণে বাধাগ্রস্থ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রযুক্তির সহায়তা ও আইন মানার প্রবণতা তৈরি না হলে শুধু সচেতনতা দিয়েও কাজ হবে না বলে ওঠে আসে। সেক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়। তাছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস ও লোকবল বৃদ্ধির দাবি তুলে ধরা হয়।
সোমবার (১৬ মে) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে পরিবেশ অধিদফতরের ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’এর আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এবস বিষয় তুলে ধরেন বক্তারা।
কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির লেকচারার আব্দুল্লাহ আল নাঈম এর সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির ছিলেন চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সাজিয়া আফরীন। এছাড়া বাসমালিক সমিতির সদস্য, সাংবাদিক, পুলিশ, ও সামাজিক ও পরিবেশবাদি বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সাজিয়া আফরীন বলেন, উন্নত দেশের যে স্বপ্ন দেখছি, সেখানে শব্দ দূষণে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে এ ধরণের স্বপ্ন দেখা মুসকিল। এককভাবে শব্দ দূষণ রোধ সম্ভব না তাই সম্মিলিতভাবে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
হাইড্রোলিক ব্রেকের বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন অভিযানের সময় বিভিন্ন গাড়িতে ২/৩টা করে হাইড্রোলিক ব্রেক পাওয়া যায়। অযথা হর্ণ বাজানোকে মানসিক সমস্যা আখ্যা দিয়ে তিনি মেন্টালিটি পরিবর্তনের আহ্বান জানান। তাছাড়া চুয়াডাঙ্গার রাস্তায় সেলু ইঞ্জিন চালিত ভেন গাড়িতে জেনারেটর মেশিনকে লেদে তৈরি করে লাগারো হয় বলেও অভিযোগ করেন। এসব বন্ধ করে দেয় ছাড়া কোন উপায় নেই বলেও মন্তব্য করেন। তবে এসব আনওথোরাজড গাড়ির সাথে মানুষের জীবিকা জড়িত বলে কিছু করতে পারেন না বলেও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস ও লোকবল বাড়ানোর দাবিও করেন এ সরকারি কর্মকর্তা।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক আতাউর রহমান বলেন, এ আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো শব্দদূষণ রোধে সবাইকে অংশীদার করা। ব্যাক্তিগতভাবে আমরা যে দূষণ করি তা কমাতে হবে। আগে একসময় বাসে-ট্রেনে অনেক সিগারেট খাওয়া হলেও এখন তা কমে গেছে। তেমনি সবাই সচেতন হলে শব্দ দূষণ কমানো যাবে বলেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন এ পরিবেশ কর্মকর্তা। তাছাড়া এ বছরের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস হবে বলেও জানান তিনি।
ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের যদি শব্দ দূষণরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ দেয়া যায় তাহলে এটা আমাদের কাজে সহায়ক হবে। নসিমন-করিমন ও হাইড্রোলিক হর্ণ অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করলেও এটা তাদের কর্মসংস্থান তাই যথাযথ আইন প্রয়োগ করা যায় বলেও স্বীকার করে নেন।
আতশবাজির মাধ্যমেও শহরে শব্দ দূষণ হচ্ছে বলে অভিযোগ করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন গ্রীন ভয়েসের এক সদস্য। মটর সাইকেলে সাইলেন্সার লাগালে শব্দ কম হবে বলে তুলে ধরেন প্রথমআলোর জেলা প্রতিনিধি।
এরআগে মূল প্রবন্ধ উপস্থপনায় আব্দুল্লাহ আল নাঈম জানান, মানমাত্রায় ৫৫-৬০ ডেসিবেল শব্দ থাকার কথা থাকলেও চুয়াডাঙ্গা জেলায় তা ১০০ থেকে ১১০ ডেসিবেল হয়ে যাচ্ছে। জেলার ৫ টি স্থানের শব্দের মান যাচাই করছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ণ কেন্দ্র (ক্যাপস)।
পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালিত শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের শব্দ দূষণের ওপর জরিপ করছে ইকিউএমএস কনসালটিং লিমিটেড এবং বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ণ কেন্দ্র (ক্যাপস)। তারই অংশ হিসেবে সোমবার বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত টিম চুয়াডাঙ্গা শহরে শব্দদূষণের মাত্রা জানতে ৫ স্থানের সাউন্ড লেভেল মিটার স্থাপন করে। এ মেশিনটি প্রতি এক মিনিট পরপর তথ্য দেবে। যার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার শব্দদূষণের মাত্রা জানা যাবে।
আনন্দবাজার/শহক








