রানা হামিদআমাদের সবই গা-সওয়া! এইতো শীতের সকালে কচুরিপানার ভরাট পুকুরে গামছায় মোড়া অর্ধাবৃত দেহটাকে গড়গড়িয়ে নামিয়ে দেয়া কয়েকদিনের যুদ্ধ শেষে হয়ে গিয়েছিল গা-সওয়া! স্কুল জানালার ফাঁক গলিয়ে, জীর্ন রাস্তায় শীর্ণ কায়ে সেই যে বড় বাড়ির আম গাছ থেকে কয়েক ঢিলে আম কুড়িয়ে... মায়ের হাতের স্নেহের পরশ, যদিও গায়ে দাগ পরেছে একসময়ে নিয়েছি সয়ে... বাবার সাথে সাঁকোর পরে বাঁকা পথের শেষ মাথাতে ভূপেন বাবুর ছোট্ট দোকান গোল্লা সেথায় থরে বিথরে... এক চিলতেই তৃষ্ণা মেটে কিন্তু রোজই যাই সেখানে এক পলকের ছোট্ট ভুলে ভুল করে আর না তাকানোর শপথ ভাঙে নিত্যদিনের একটু দূরে এগিয়ে আবার বিপিন বাবুর দর্জি দোকান... লাল শার্টটা রোজই আমায় ডাকবে আবার মিষ্টি রেগে... কিন্তু বাবার মলিন মুখে একদিন সব হবেই হবে... অম্লমধুর বাণী আমায় সাহস যোগায় সইয়ে নিতে। ওই যে সে বার ওলাবিবি খড়গ হাতে আসলে যেদিন ভূপেন, বিপিন সবই কতল চারপাশ আজ শ্রান্ত ভীষণ। এই পাড়ার হাবুল মিয়া বকশীতলার বেদে বেটা পরলে তাহার রোষানলে হারিয়ে গেলেন ঘুমের ঘোরে... প্রথম দিকের লাশের মিছিল কান্নাকাটি করছে অতি ক্রমান্বয়ে এলো সে ক্ষণ কপল পাটি শুষ্ক ভীষণ তাও নিয়েছি সয়ে আমি সাথে আমার রূগ্ন স্বপন। এই যে আমার সয়ে যাওয়া নিত্যদিনের নতুন পাওয়া আজও আমি ভাবছি বসে একলাটি আর নেই সে পথে আমার সাথে সুর মিলিয়ে গাইছে এ গান বঙ্গবীরে...
নিরবে সয়ে যাওয়া
প্রকাশ:









