বায়ুদূষণ রাজধানীর আড়াই কোটি মানুষের জন্য বৃহদাকার স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করলেও বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না ।
অথচ যেইখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কোনো এলাকায় বায়ুমান সূচক (একিউআই) ৩০০ অতিক্রম করিলে তাকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে গণ্য করা হয়, সেইখানে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার কয়েকটি এলাকায় এই সূচক ৬০০ অতিক্রম করেছে।
একই দিবসে বিশ্বের ১২৪টি শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল ঢাকা। অথচ একদিকে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশনের সক্রিয়তা দৃশ্যমান নেই, অন্যদিকে সরকারি দপ্তরসমূহেও দৃশ্যমান তৎপরতা অনুপস্থিত।
ঢাকার এই পরিস্থিতি নতুন নয়। ৯ বৎসরের তথ্য বিশ্লেষণ করে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র-ক্যাপস দেখাইয়াছে, ২০১৬ হইতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে প্রতি বৎসরই বায়ুদূষণ পূর্বাপেক্ষা বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩ সহস্র ১১৪ দিবসের মধ্যে মাত্র ৩১ তথা মাত্র ১ শতাংশ দিবসে নির্মল বায়ু নগরবাসী পেয়েছে। বায়দূষণের কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, শ্বাসকষ্টের রোগীর অধিক সংখ্যায় হাসপাতালে উপস্থিতি আমরা দেখছি।
ঢাকার বিষাক্ত বায়ুর প্রভাবে অকালমৃত্যু ও মানুষের রোগব্যাধি বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিশেষজ্ঞগণ বিবিধ সতর্কবার্তা দিয়াছেন। দীর্ঘ মেয়াদে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর বায়ুদূষণের প্রভাব ভয়ংকররূপে প্রতিভাত। এই কারণেই পরিবেশকর্মীদের আবেদনের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে উচ্চ আদালত একাধিকবার ঢাকার রায়ুমান উন্নতকরণে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা জারি করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তার কোন প্রতিপালিত বাস্তবে নেই ।
নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত ঢাকায় শুধু বায়ুদূষণ নহে; শব্দ ও দৃশ্যদূষণও এখানে মাত্রা অতিক্রান্ত। মানব-স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় এই সকল দূষণ প্রতিরোধে প্রশাসনকে পরিকল্পিত পদক্ষেপ লইতেই হইবে। ।









